১০ বছর পর সেই ভারতীয় প্রতিপক্ষের সামনে ভিনি

দশ বছর আগে দুজনই ছিলেন কিশোর। একজন ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব-১৭ দলের প্রতিভাবান উইঙ্গার, অন্যজন ভারতের মাঝমাঠের উঠতি ফুটবলার। গোয়ায় সেদিন মুখোমুখি হয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও লালেংমাউইয়া ‘আপুইয়া’ রালতে। সময়ের ব্যবধানে তাদের ক্যারিয়ার গেছে একেবারে দুই পথে। কিন্তু এক দশক পর কলকাতায় আবার একই মাঠে দেখা হতে যাচ্ছে দুজনের।
শনিবার সল্টলেক স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। দুই দেশের সিনিয়র পুরুষ জাতীয় দলের ইতিহাসে এটিই প্রথম মুখোমুখি লড়াই। আর সেই ম্যাচ ভিনির জন্য নিয়ে আসছে পুরোনো এক পরিচিত মুখ; ভারতের মিডফিল্ডার আপুইয়া রালতে।
গল্পটা ২০১৬ সালের। ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস কাপের জন্য ব্রাজিল অনূর্ধ্ব-১৭ দলের সঙ্গে গোয়ায় এসেছিলেন তখন ১৬ বছর বয়সী ভিনি। ভারতও খেলেছিল সেই প্রতিযোগিতায়। ব্রাজিলের বিপক্ষে ভারতের শুরুর একাদশে ছিলেন আপুইয়া। ম্যাচটি ব্রাজিল জিতেছিল ৩-১ ব্যবধানে, গোলও করেছিলেন ভিনি।
সেই টুর্নামেন্টটা ভিনির জন্য ছিল বিশেষ। ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল এবং পাঁচ ম্যাচে পাঁচ গোল করে প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন তিনি।
এরপরের দশ বছরে ভিনির জীবন বদলেছে নাটকীয়ভাবে। ফ্ল্যামেঙ্গো থেকে রিয়াল মাদ্রিদ, এরপর ইউরোপের সবচেয়ে আলোচিত ফুটবলারদের একজন হয়ে ওঠা ক্যারিয়ারের পথটা তাঁকে নিয়ে গেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে।
অন্যদিকে আপুইয়ার পুরো ক্যারিয়ার কেটেছে ভারতেই। ইন্ডিয়ান অ্যারোজের পর নর্থইস্ট ইউনাইটেড ও মুম্বাই সিটি হয়ে বর্তমানে তিনি খেলছেন মোহনবাগান সুপার জায়ান্টে। ২০১৬ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলা সেই ভারতীয় দলের সদস্যদের মধ্যে বর্তমান সিনিয়র দলে জায়গা ধরে রাখা একমাত্র ফুটবলারও তিনি।

আজ তাই দৃশ্যটা বেশ অন্যরকম। দশ বছর আগে যে ভিনিকে তিনি বয়সভিত্তিক ফুটবলে সামলেছিলেন, এবার সেই ভিনি রিয়াল মাদ্রিদ ও ব্রাজিলের অন্যতম বড় তারকা।
আপুইয়া অবশ্য প্রতিপক্ষের নাম দেখে নিজের প্রস্তুতির ধরন বদলাতে চান না। ব্রাজিলের ফুটবলাররা তার চেয়ে এগিয়ে এটা মেনে নিয়েও নিজের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করাই তার লক্ষ্য বলে টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন ভারতীয় মিডফিল্ডার।
অন্যদিকে ভিনির কাছেও ভারত সফরটা শুধুই আরেকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ নয়। দশ বছর আগের সফরের কথা মনে করে তিনি জানিয়েছেন, তখন তিনি ছিলেন কেবল একজন কিশোর এবং আবার ভারতে ফিরবেন, সেটা ভাবেননি। ভারতীয় সমর্থকদের ব্রাজিল ও তার প্রতি ভালোবাসার কথাও বলেছেন এই ফরোয়ার্ড।
ভারতের মাটিতে তার আগের স্মৃতিটাও সুখের শিরোপা, গোল এবং সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার।
এবার অবশ্য মঞ্চ অনেক বড়। বয়সভিত্তিক দলের বদলে দুই দেশের সিনিয়র জাতীয় দল। গোয়ার বদলে কলকাতার সল্টলেক। আর সেই ১৬ বছরের ভিনি এখন বিশ্ব ফুটবলের তারকা।
তবু ম্যাচের কোনো এক মুহূর্তে যদি ভিনি ও আপুইয়া আবার একে অপরের সামনে এসে দাঁড়ান, দৃশ্যটা যেন দশ বছর আগের সেই বিকেলেরই নতুন সংস্করণ। শুধু মাঝখানের দশ বছরে বদলে গেছে দুজনের পৃথিবী।
