২৭ গোল করেও ট্রফি না জেতা দলের গল্প

বিশ্বকাপের ইতিহাসে অনেক শক্তিশালী দল আছে, যারা ট্রফি জিতেছে। আবার কিছু দল আছে, যারা ট্রফি না জিতেও ইতিহাসে থেকে গেছে। ১৯৫৪ সালের হাঙ্গেরি সেই দ্বিতীয় দলেরই সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
সেই সময় হাঙ্গেরিকে বলা হতো ‘ম্যাজিক্যাল মাগিয়ার্স’। ফেরেঙ্ক পুসকাস, সান্দর কচিশ, নান্দোর হিদেগকুতিদের নিয়ে গড়া দলটি ছিল ইউরোপের সবচেয়ে ভয়ংকর ফুটবল শক্তি। শুধু শক্তিশালী নয়, তারা ছিল সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা একটি দল।
১৯৫৪ বিশ্বকাপে হাঙ্গেরির শুরুটা ছিল অবিশ্বাস্য। গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৯-০ গোলে হারায় তারা। এরপর পশ্চিম জার্মানিকে হারায় ৮-৩ ব্যবধানে। প্রথম দুই ম্যাচেই ১৭ গোল। তখন মনে হচ্ছিল, এই বিশ্বকাপ শুধু সময়ের অপেক্ষা। ট্রফি যেন হাঙ্গেরির হাতেই উঠবে।
কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলকে ৪-২ গোলে হারায় হাঙ্গেরি। সেই ম্যাচটি ইতিহাসে পরিচিত ‘ব্যাটল অব বার্ন’ নামে, যেখানে মাঠের ফুটবলের চেয়ে উত্তাপ, ফাউল আর সংঘর্ষ বেশি আলোচনায় ছিল। সেমিফাইনালে উরুগুয়ের বিপক্ষেও একই ব্যবধানে জয়। তখন পর্যন্ত হাঙ্গেরি যেন অপ্রতিরোধ্য।
পুরো টুর্নামেন্টে তারা করে ২৭ গোল। মাত্র পাঁচ ম্যাচে ২৭ গোল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে কোনো দলের এত গোল করার রেকর্ড আজও অটুট।
কিন্তু ফুটবল শুধু পরিসংখ্যানের খেলা নয়। ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল সেই পশ্চিম জার্মানি, যাদের গ্রুপ পর্বে ৮-৩ গোলে হারিয়েছিল হাঙ্গেরি। শুরুটাও হয়েছিল তাদের মতোই। ৮ মিনিটের মধ্যে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় হাঙ্গেরি।
তারপরই বদলে যায় গল্প।
পশ্চিম জার্মানি ফিরে আসে ম্যাচে। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে জিতে নেয় ফাইনাল। যে হাঙ্গেরি পুরো বিশ্বকাপে গোলের বন্যা বইয়ে দিয়েছিল, তারাই শিরোপা থেকে বঞ্চিত হয় শেষ ম্যাচে।
এই ফাইনালই পরে পরিচিত হয় ‘মিরাকল অব বার্ন’ নামে।
১৯৫৪ সালের সেই হাঙ্গেরি আজও বিশ্বকাপের সবচেয়ে দুর্ভাগা দলগুলোর একটি হিসেবে মনে রাখা হয়। তারা টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি গোল করেছিল, সবচেয়ে ভয়ংকর ফুটবল খেলেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ট্রফি জেতেনি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই গল্পটা তাই শুধু একটি পরাজয়ের নয়। এটি মনে করিয়ে দেয়, সবচেয়ে ভালো দলও সবসময় চ্যাম্পিয়ন হয় না।
কখনো কখনো ইতিহাস লেখা হয় ট্রফি দিয়ে। আবার কখনো লেখা হয় হার দিয়েও।