logo

চীনের বিপক্ষে সাহসী পারফরম্যান্সে অভিষেকেই নজর কাড়লেন মিলি

চীনের বিপক্ষে সাহসী পারফরম্যান্সে অভিষেকেই নজর কাড়লেন মিলি

স্কোরলাইন বলছে বাংলাদেশ হেরেছে ২-০ ব্যবধানে। কিন্তু গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে এক তরুণীর আত্মপ্রকাশ আলাদা করে মনে রাখার মতো। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক অভিষেকেই দৃঢ়তা, প্রতিক্রিয়া আর আত্মবিশ্বাসে নিজের উপস্থিতি জানান দিলেন গোলরক্ষক মিলি আক্তার।

নিয়মিত গোলরক্ষক রুপনা চাকমাকে বেঞ্চে রেখে কোচ পিটার বাটলার যে আস্থা রেখেছিলেন মিলির ওপর, সেটির যথার্থতা প্রমাণের চেষ্টা করেছেন তিনি। ম্যাচজুড়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে ব্যবধান আরও বাড়তে দেননি। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে দূরপাল্লার শট ঠেকানো এবং বক্সের ভেতরের জটলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া তার আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন।

ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে মিলি বলেন, এই সুযোগটি হঠাৎ পাওয়া নয়। কোচিং স্টাফের পরিকল্পনা ও নিজের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, লিগ পর্যায়ে খেলার সময় থেকেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন বড় ম্যাচে দায়িত্ব আসতে পারে। ‘প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ, তাই শুরুর দিকে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা স্নায়ুচাপ ছিল। কিন্তু কয়েক মিনিট পর সব ঠিক হয়ে যায়। এরপর আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলেছি,’ বলেন মিলি।

দুই গোল হজমের পরও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েননি এই তরুণ গোলরক্ষক। তার বিশ্লেষণ, গোল দুটি এসেছে দলের কিছু ভুল থেকে, ভয় বা চাপের কারণে নয়। পরের ম্যাচে ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

সিনিয়র গোলরক্ষক রুপনা চাকমার সঙ্গে প্রতিযোগিতাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন মিলি। রুপনার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার লড়াই সুস্থ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই এগোয়। ‘তিনি সিনিয়র, আমি তাকে সম্মান করি এবং অনুসরণ করি। প্রতিযোগিতা থাকলেই তো উন্নতি সম্ভব,’ এভাবেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন মিলি।

হার সত্ত্বেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং মিলির অভিষেক পারফরম্যান্স দলটির জন্য ভবিষ্যতের আশাবাদ জাগাচ্ছে। মহাদেশীয় মঞ্চে প্রথম অভিজ্ঞতায় যে আত্মবিশ্বাসের ঝলক দেখা গেছে, সেটিই হতে পারে আগামী ম্যাচগুলোর বড় প্রাপ্তি।