logo

ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কট নিয়ে আলোচনা হলেও বাস্তবায়নের সম্ভাবনা ক্ষীণ

ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কট নিয়ে আলোচনা হলেও বাস্তবায়নের সম্ভাবনা ক্ষীণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কটের প্রসঙ্গ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে জার্মানির কয়েকজন রাজনৈতিক ও ক্রীড়া অঙ্গনের প্রভাবশালী ব্যক্তির বক্তব্য এই বিতর্কে আগুন জ্বালিয়েছে। তবে বাস্তবতায় বড় কোনো ফুটবল ফেডারেশন এই মুহূর্তে বয়কটের পথে হাঁটতে রাজি নয় বলেই মনে করে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস।

জার্মান সংবাদপত্র ডার বুন্ড-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইনজীবী ও দুর্নীতিবিরোধী বিশেষজ্ঞ মার্ক পিয়েথ সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেন। তার বক্তব্যকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থন জানান সাবেক ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটারও। এসব মন্তব্যের পর বিশ্বকাপ শুরুর ছয় মাসেরও কম সময় আগে সম্ভাব্য বয়কট নিয়ে জল্পনা আরও জোরাল হয়।

এরমধ্যে মিনিয়াপোলিসে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার (আইসিই) অভিযানে অ্যালেক্স প্রেট্টির মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলায় জোরপূর্বক অভিযানের নির্দেশ ও দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগও বিতর্ককে উসকে দেয়।

বয়কটের আলোচনা মূলত জার্মানি থেকেই শুরু হয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সময় মানবাধিকার ইস্যুতে জার্মানি ও নরওয়ে ফিফার কড়া সমালোচক ছিল। জার্মান ক্লাব সেন্ট পাউলির সভাপতি ওকে গটলিশ বলেন, ‘এখনই সময় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা ও আলোচনা করার।’

তবে জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের (ডিএফবি) সভাপতি দ্রুতই এই বিতর্কে ইতি টানেন। তার ভাষায়, এই মুহূর্তে বয়কট নিয়ে আলোচনা সম্পূর্ণ ভুল পথে পরিচালিত।

বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের সভাপতি হান্স-ইয়াখিম ভাতস্কেও একই সুরে বলেন, বিশ্বকাপ বয়কটের কোনো যৌক্তিকতা এখন নেই।

ফ্রান্সেও একই অবস্থান। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি জানান, সরকার বিশ্বকাপ বয়কটের কথা ভাবছে না। ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফিলিপ ডিয়ালোও বলেন, জাতীয় দলকে নিয়ে এমন কোনো পরিকল্পনা নেই।

স্পেনে এ বিষয়ে কার্যত কোনো আলোচনা নেই। রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ) ফিফার নির্দেশনাই অনুসরণ করতে চায়, বিশেষ করে ভবিষ্যতে নিজেদের দেশে বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়টি মাথায় রেখে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পুরো পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে ইনফান্তিনোর দেওয়া ‘শান্তি পুরস্কার’, এমনকি টুর্নামেন্ট আয়োজনসংক্রান্ত টাস্কফোর্সে ট্রাম্পের সরাসরি ভূমিকা—সব মিলিয়ে দুই পক্ষের সম্পর্ক বিশ্বকাপ বয়কটকে কার্যত অসম্ভব করে তুলেছে।

ইতিহাসও বয়কটের বিপক্ষে। ফুটবল বিশ্বকাপে আগে কখনো বয়কট হয়নি। যদিও কোল্ড ওয়ারের সময় ১৯৮০ মস্কো ও ১৯৮৪ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকসে পাল্টাপাল্টি বয়কট দেখা গেছে, তবে বর্তমান বাস্তবতা ভিন্ন। ফুটবলের প্রভাব, ফিফা-যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতা এবং সময়ের ঘনিষ্ঠতা বিবেচনায় বড় কোনো দেশ বা ফেডারেশনের বিশ্বকাপ বর্জনের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।