যে কারণে রিয়ালকে ‘না’ বলে বার্সাকে বেছে নিলেন রদ্রি
-99cc67.webp)
রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি পরা ছিল স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রদ্রি হার্নান্দেজের শৈশবের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণের সবচেয়ে বড় সুযোগও এসেছিল এই গ্রীষ্মে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রিয়ালের প্রস্তাব ফিরিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনাকে বেছে নেন ব্যালন ডি’অরজয়ী এই মিডফিল্ডার।
এরপর থেকেই রিয়াল সমর্থকদের মনে প্রশ্ন, কী এমন ঘটেছিল যে বহুদিনের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পেয়েও বার্সার পথে হাঁটলেন রদ্রি? সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা।
নিজেদের বিশ্লেষণে মার্কা জানিয়েছে, অর্থ নয়, দুই ক্লাবের প্রকল্পের স্পষ্টতা ও আগ্রহ দেখানোর পার্থক্যই রদ্রির সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে।
ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে রদ্রির দলবদল নিয়ে ৭ কোটি ৬৫ লাখ ইউরোর প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে বার্সেলোনা। এর মধ্যে ছয় কোটি ইউরো সরাসরি দেওয়া হবে। বাকি অর্থের অধিকাংশ সহজে পূরণযোগ্য শর্তের বোনাস হিসেবে পেতে পারে সিটি। ৩০ বছর বয়সী রদ্রির সঙ্গে চার বছরের চুক্তির কথাও চূড়ান্ত হয়েছে। তবে এখনো দুই ক্লাব আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
রদ্রির প্রথমবার রিয়ালে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল ২০১৯ সালে। তখন আতলেতিকো মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রিয়ালের প্রস্তাবের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু টনি ক্রুস, লুকা মদরিচ ও কাসেমিরোকে নিয়ে সাজানো মধ্যমাঠে তার জন্য জায়গা তৈরির প্রয়োজন মনে করেনি রিয়াল।
শেষ পর্যন্ত চুক্তির ছাড়মূল্য দিয়ে রদ্রিকে ম্যানচেস্টার সিটিতে নিয়ে যান পেপ গার্দিওলা। ইংল্যান্ডে গিয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডারে পরিণত হন তিনি। জেতেন ব্যালন ডি’অর, চ্যাম্পিয়নস লিগসহ অসংখ্য শিরোপা।
এই গ্রীষ্মে পরিস্থিতি ছিল আলাদা। সিটির সঙ্গে রদ্রির চুক্তির শেষ বছর, গার্দিওলার বিদায় এবং স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানোর পথে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স দলবদলের সুযোগ তৈরি করে। রিয়াল সমর্থকেরাও তাকে দলে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছিলেন।
তবে মার্কার দাবি, বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে পর্যন্ত রদ্রিকে নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত ছিল না রিয়াল। ক্লাবের ভেতরে তার খেলার ধরন নিয়েও প্রশ্ন ছিল। রিয়ালের ট্রেনিং গ্রাউন্ড ভালদেবেবাসে একটি মন্তব্য শোনা গিয়েছিল, ‘সে বল পায়ে বেশি সময় রাখে। আমরা যে ধরনের খেলোয়াড় খুঁজছি, সে তেমন নয়।’
রিয়াল আরও গতিশীল ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী একজন মিডফিল্ডার চাইছিল। অথচ বিশ্বকাপে এক আসরে সর্বাধিক পাস সম্পন্ন করার রেকর্ড গড়েছিলেন রদ্রি। তার সফল পাসের হারও ছিল ৯৩ শতাংশের বেশি।
বিশ্বকাপের পর রদ্রির সঙ্গে যোগাযোগ করেন সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ ও প্রধান নির্বাহী হোসে আনহেল সানচেজ। কিন্তু মার্কার মতে, বিশ্বমানের কোনো ফুটবলারকে নেওয়ার ক্ষেত্রে রিয়াল সাধারণত যে সর্বাত্মক আগ্রহ দেখায়, রদ্রির বেলায় সেটি ছিল না। রদ্রিকে টানতে মরিনহোর পক্ষ থেকেও একই মাত্রার ব্যক্তিগত উদ্যোগ দেখা যায়নি।
অন্যদিকে বার্সেলোনা শুরু থেকেই সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে নামে। সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা, ক্রীড়া পরিচালক ডেকো, কোচ হানসি ফ্লিক ও দলের একাধিক ফুটবলার ব্যক্তিগতভাবে রদ্রির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাকে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়, বার্সার নতুন প্রকল্পে তার ভূমিকা কী হবে।
দুই ক্লাবের আর্থিক প্রস্তাবও প্রায় একই ছিল বলে জানিয়েছে মার্কা। তাই অর্থ নয়, সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে ফুটবলীয় প্রকল্প। রদ্রির খেলার ধরন বার্সেলোনার বলনির্ভর কৌশলের সঙ্গে মানানসই। বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলের পেদ্রি, গাভি, দানি ওলমো ও লামিনে ইয়ামালের মতো সতীর্থদেরও সেখানে পাবেন তিনি।
অন্যদিকে রিয়ালের প্রকল্পে নিজের ভূমিকা ও দলের মধ্যমাঠের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিত হতে পারেননি রদ্রি। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তিনি নিজেই হোসে আনহেল সানচেজকে ফোন করে আগ্রহ, সম্মান ও সৌজন্যের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং রিয়ালে না যাওয়ার কথা জানিয়ে দেন।
রদ্রি বার্নাব্যুতে নায়ক হয়ে প্রবেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু মার্কার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রিয়াল তাকে প্রকল্পের অপরিহার্য অংশের বদলে দলবদলের বাজারে তৈরি হওয়া একটি সুযোগ হিসেবে দেখেছিল। একই সুযোগ দেখে বার্সেলোনা কোনো দ্বিধা না দেখানোয় শেষ পর্যন্ত বদলে গেছে রদ্রির বহুদিনের স্বপ্নের ঠিকানা।



-232be2.webp)