logo

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক
ছবি: সংগৃহীত

সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সান মারিনোর একটি আক্রমণে বল গোললাইন পেরিয়েছিল কি না, সেটি নিয়েই মূলত প্রশ্ন উঠেছে। মাঠের রেফারি গোলের সিদ্ধান্ত না দেওয়ায় ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

ঘটনাটি ম্যাচের যোগ করা সময়ে। সান মারিনো সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণে উঠেছিল। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমার হাত ফস্কে বল গোললাইনের দিকে চলে যায়। টিভি ফুটেজের এক কোণ থেকে দেখা যায়, বলটি গোললাইনের একেবারে কাছাকাছি ছিল। সান মারিনোর সমর্থকদের দাবি, বল পুরোপুরি লাইন পেরিয়েছিল। তবে রেফারি গোল দেননি। গোললাইন টেকনোলজি বা পরিষ্কার মাল্টি-ক্যামেরা রিপ্লে না থাকায় ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সান মারিনো ফুটবল নিয়ে জনপ্রিয় একটি অনানুষ্ঠানিক ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট। তাদের দাবি, ম্যাচে মাত্র একটি ক্যামেরা ছিল এবং ঘটনাটি VAR-এ পরীক্ষা করা হয়নি। পোস্টে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছে, নিজেদের মাঠেই তারা বঞ্চিত হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অ্যাকাউন্টটি সান মারিনো ফুটবল ফেডারেশনের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট নয়। তাই এটিকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ হিসেবে নয়, সমর্থক পর্যায়ের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দেখা উচিত।

ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী গোল হতে হলে পুরো বল গোললাইন অতিক্রম করতে হয়। বলের সামান্য অংশও যদি লাইনের ওপর থাকে, তাহলে সেটি গোল নয়। এক কোণের টিভি ফুটেজ থেকে তাই নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন, বলটি পুরোপুরি লাইন পেরিয়েছিল কি না। তবে এটুকু পরিষ্কার, শেষ মুহূর্তে বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেছে বাংলাদেশ।

এর আগে ম্যাচের মূল গল্প লিখেছিলেন তপু বর্মণ। সান মারিনো স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে তাঁর জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জেতে বাংলাদেশ। দুই অর্ধে একটি করে গোল করেন অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডার। দুটি গোলই আসে হেড থেকে। দ্বিতীয়ার্ধে জামাল ভূঁইয়া মাঠ ছাড়ার পর অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও ওঠে তপুর হাতে।

বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ১৯ মিনিটে। হামজা চৌধুরীর ফ্রি কিক থেকে আক্রমণের সূত্রপাত। এরপর শেখ মোরসালিন ডান দিক থেকে ক্রস বাড়ান। বক্সে থাকা তপু বর্মণ দারুণ হেডে বল জালে পাঠান। সান মারিনোর মাঠে বাংলাদেশের সমর্থকদের উল্লাসে তখন তৈরি হয় ঘরের মাঠের আবহ।

তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধেই সমতায় ফেরে সান মারিনো। ফিলিপ্পো বেরার্দির কাটব্যাক থেকে বক্সের ভেতর ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে নিকোলাস শট নেন। মিতুল মারমা ঝাঁপিয়ে পড়ে হাত লাগালেও বল জালে জড়ায়। বিরতিতে দুই দল যায় ১-১ সমতা নিয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশের কোচ থমাস ডুলি। সামিত সোম, জায়ান আহমেদ ও সোহেল রানা জুনিয়র মাঠে নামার পর বাংলাদেশের খেলায় গতি বাড়ে। মাঝমাঠে বল চলাচল দ্রুত হয়, আক্রমণেও বাড়ে ধার। ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে আবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয় বাংলাদেশের।

শেষ দিকে বিশ্বনাথ ঘোষকে মাঠে নামান ডুলি। সাধারণত ফুলব্যাক হিসেবে খেললেও এই ম্যাচে তাকে রাইট উইংয়ে ব্যবহার করা হয়। ৮৬ মিনিটে হামজা চৌধুরীর ফ্রি কিক থেকে ডান প্রান্তে বল পেয়ে ভলি নেন বিশ্বনাথ। বক্সের ভেতরে তখন মাটিতে পড়ে ছিলেন তপু। উঠে দাঁড়ানোর সময় বল তাঁর মাথায় লেগে জালে জড়ায়। সেই গোলই হয়ে যায় বাংলাদেশের জয়সূচক গোল।