৪১ দিন আগেই লেখা হয়েছিল মেসির বিদায়ের চিঠি
-ca2e12-720x405.webp)
আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন লিওনেল মেসি। তবে সিদ্ধান্তটি সোমবার হঠাৎ নেওয়া নয়। বিশ্বকাপ ফাইনালের মাত্র দুই দিন পরই নিজের বিদায়ের কথাগুলো লিখে রেখেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এরপর সেই চিঠি নিজের কাছেই রেখেছেন ৪১ দিন।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। দীর্ঘ বার্তার একেবারে শেষে ছোট্ট একটি নোটেই তিনি জানান, কথাগুলো লিখেছিলেন গত ২১ জুলাই।
মেসি লিখেছেন, ‘এই কথাগুলো আমি ২১ জুলাই, ফাইনালের দুই দিন পর লিখেছিলাম। আজ আমার বাবার সঙ্গে যা ঘটেছে, তার পর নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি আগের চেয়েও বেশি নিশ্চিত।’
অর্থাৎ ৩১ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দিলেও মেসির বিদায়ের সিদ্ধান্ত তৈরি হয়ে গিয়েছিল ৪১ দিন আগেই।
১৯ জুলাই নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে ১-০ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ ধরে রাখার স্বপ্ন ভাঙে মেসিদের। পুরো ম্যাচে স্পেনের কড়া নজরদারিতে ছিলেন মেসি। নিয়মিত ৯০ মিনিটে একটি শটও নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা।
সেই হতাশার মাত্র দুই দিন পরই নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ইতি টানার কথাগুলো লিখেছিলেন মেসি।
তবে তখনই তা প্রকাশ করেননি। বরং সিদ্ধান্তটি নিজের কাছেই রেখে দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৮ আগস্ট রোসারিওতে ৬৮ বছর বয়সে মারা যান তার বাবা হোর্হে মেসি। দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন তিনি। মেসির ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তার অন্যতম প্রধান ভরসা ও প্রতিনিধি ছিলেন হোর্হে।
বাবার মৃত্যুর চার দিন পর দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় নিজের ফুটবল ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছিলেন মেসি। বিশ্বকাপেও বাবার অসুস্থতা তার ওপর বড় মানসিক চাপ তৈরি করেছিল বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত বাবাকে হারানোর পর জাতীয় দল ছাড়ার আগের সিদ্ধান্তেই অটল থাকলেন মেসি।
বিদায়ী চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘সিদ্ধান্তটি নিতে কষ্ট হয়েছে এবং এখনো হৃদয়ে ব্যথা দেয়। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি, এটাই সময়।’
আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের সবকিছু দিয়ে দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন মেসি। তার ভাষায়, ‘আমি নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েছি। আমার আর কিছু দেওয়ার নেই। আর পেছনে দারুণ কিছু তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে, যারা এই জায়গার যোগ্য।’
২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার সিনিয়র দলে অভিষেক হয়েছিল মেসির। এরপর ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে দেশের হয়ে রেকর্ড ২০৭ ম্যাচ খেলে করেছেন রেকর্ড ১২৫ গোল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে জাতীয় দলের হয়ে প্রথম বড় শিরোপা পান। এরপর ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালে আরও একটি কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে আরেকটি শিরোপার খুব কাছে গিয়েছিলেন মেসি। আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে তুলেছিলেন। কিন্তু শেষ ম্যাচে স্পেনের কাছে হারেই শেষ পর্যন্ত থামে সেই যাত্রা।
ফাইনালের পর তখনো কেউ জানত না, আর্জেন্টিনার জার্সিতে সেটিই মেসির শেষ ম্যাচ হয়ে গেছে। এমনকি মেসিও নিজের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেননি।
দুই দিন পর তিনি বিদায়ের চিঠি লিখেছিলেন। আর ৪১ দিন পর সেই চিঠি প্রকাশ করে জানিয়ে দিলেন, আর্জেন্টিনার হয়ে তার অধ্যায় সত্যিই শেষ।





