আরও এক দেশের সমর্থন হারালেন ইনফান্তিনো
-591ad3-720x405.webp)
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর চাপ আরও বাড়ল। একের পর এক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সমর্থন হারানোর ধারাবাহিকতায় এবার ফিফা সভাপতির পুনর্নির্বাচনের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ)। ২০২৭ সালের নির্বাচনে ইনফান্তিনোকে সমর্থন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
আইএফএর পরিচালনা পর্ষদ সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফিফাকে পাঠানো এক চিঠিতে আইএফএ সভাপতি মোশে জুয়ারেস জানিয়েছেন, বিশ্ব ফুটবলের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ফিফা-উয়েফার সম্পর্কের অবনতির কারণেই ইনফান্তিনোর প্রতি আগে দেওয়া সমর্থন প্রত্যাহার করা হয়েছে।
চিঠিতে জুয়ারেস ফিফা ও উয়েফার মধ্যে বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অভূতপূর্ব আস্থার সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, বিশ্ব ফুটবল কোন পথে এগোবে, সেটি নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে ইনফান্তিনোর বিতর্কিত পরিকল্পনার জেরে ফিফায় বড় ধরনের সংকট চলছে।
‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে বিশ্বকাপসহ ফিফার প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করেছিলেন ইনফান্তিনো। সেই প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশের বেশি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাবও ছিল। উয়েফা, কনকাকাফ ও এএফসির তীব্র বিরোধিতার পর শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি বাতিল করতে হয় ফিফাকে।
এই ঘটনা ঘিরে ফিফার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্বচ্ছতার অভাব ও বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। উয়েফা, কনকাকাফ ও এএফসি একসঙ্গে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করেছে। এমনকি পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।
এরই মধ্যে ইনফান্তিনোর সমর্থন প্রত্যাহার করেছে ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। ওশেনিয়া ফুটবল কনফেডারেশন ইনফান্তিনোর পাশে থাকলেও সেই অবস্থানের বাইরে গিয়ে নিউজিল্যান্ডও তার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। এবার সেই তালিকায় যোগ হলো ইসরায়েল।
ফিফার অভ্যন্তরেও বিতর্কের প্রভাব পড়েছে। ইনফান্তিনোর বিশ্বকাপ বাণিজ্যিক পরিকল্পনার সমালোচনা করা প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুরের সঙ্গে ১৭ আগস্ট কর্মসম্পর্ক শেষ করেছে ফিফা। পরিকল্পনাটি নিয়ে ফিফার প্রশাসনকে ‘বিভ্রান্ত’ করা হয়েছিল বলে প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছিলেন লামুর।
তবে ইনফান্তিনোর সমর্থন পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ওশেনিয়ার অনেক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এখনো তার পাশে রয়েছে। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ভেরন মোসেঙ্গো-ওম্বাও দাবি করেছেন, ফিফার অধিকাংশ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের সমর্থন এখনো বর্তমান সভাপতির দিকেই রয়েছে।
২০১৬ সাল থেকে ফিফার সভাপতির দায়িত্বে থাকা ইনফান্তিনোর আগামী বছর আবার নির্বাচনে দাঁড়ানোর কথা। কিন্তু বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক পরিকল্পনা ঘিরে তৈরি হওয়া সংকট এবং একের পর এক দেশের সমর্থন প্রত্যাহার তার পুনর্নির্বাচনের পথ ক্রমেই জটিল করে তুলছে।



