logo

১১ বছর পর আবার ব্রাজিল-ফ্রান্স লড়াই, নজর এমবাপ্পে-ভিনিসিয়ুসে

১১ বছর পর আবার ব্রাজিল-ফ্রান্স লড়াই, নজর এমবাপ্পে-ভিনিসিয়ুসে

বিশ্বকাপের আর মাত্র তিন মাস বাকি। এর মাঝেই ফুটবল বিশ্বের দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও ফ্রান্স মুখোমুখি হচ্ছে এক উচ্চপ্রোফাইল প্রীতি ম্যাচে। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের গিলেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার (২৬ মার্চ) রাত ২টায় অনুষ্ঠিত হবে এই বহুল প্রতীক্ষিত লড়াই। 

এই ম্যাচ শুধু একটি প্রীতি লড়াই নয় বরং আসন্ন বিশ্বকাপের আগে দুই দলের প্রস্তুতি, কৌশল ও শক্তিমত্তা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

ব্রাজিল ও ফ্রান্স সর্বশেষ একে অপরের বিপক্ষে খেলেছিল ২০১৫ সালে, যেখানে পিছিয়ে থেকেও ৩-১ ব্যবধানে জয় পায় ব্রাজিল। তবে প্রতিযোগিতামূলক আসরে শেষ দেখায় ২০০৬ বিশ্বকাপে, যেখানে জিনেদিন জিদানের নেতৃত্বে ফ্রান্স ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।

দক্ষিণ আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে খুব একটা স্বস্তিদায়ক পারফরম্যান্স ছিল না ব্রাজিলের—১৮ ম্যাচে ৬টি হার, শেষ পর্যন্ত পঞ্চম স্থানে থেকে যোগ্যতা অর্জন।

তবে নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির আগমনে দল নতুনভাবে গুছিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। তার লক্ষ্য—২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয়।

এই ম্যাচে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ভরসা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ক্লাব পর্যায়ে সফল হলেও জাতীয় দলে এখনো পুরোপুরি নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি তিনি। সামনে বিশ্বকাপ—এটাই তার বড় সুযোগ।

ব্রাজিল স্কোয়াডে সবচেয়ে আলোচিত অনুপস্থিতি নেইমার। দীর্ঘদিন ধরেই ইনজুরি সমস্যায় ভুগছেন তিনি। আনচেলত্তির ভাষায়, ‘টেকনিক্যাল নয়, ফিজিক্যাল সমস্যা। সে এখনো ১০০ শতাংশ ফিট নয়।’

অন্যদিকে ফ্রান্সের মূল আকর্ষণ সবসময়ই কিলিয়ান এমবাপ্পে। হাঁটুর চোট কাটিয়ে সম্প্রতি মাঠে ফিরেছেন তিনি এবং এই ম্যাচে খেলার জন্য প্রস্তুত।

ফ্রান্সের জন্য স্বস্তির খবর—তার চোট গুরুতর কিছু নয়, বিশ্বকাপ নিয়েও কোনো শঙ্কা নেই।

এই ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে দুই তরুণ সুপারস্টার—ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বনাম কিলিয়ান এমবাপ্পে।

একজন ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ, অন্যজন ইতোমধ্যেই বিশ্বমঞ্চের প্রতিষ্ঠিত নায়ক। ফলে ম্যাচটি হয়ে উঠছে এক অর্থে ব্যক্তিগত লড়াইয়েরও মঞ্চ।

যদি দুই দলই নিজেদের গ্রুপে শীর্ষে থাকে, তাহলে বিশ্বকাপে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা কেবল ফাইনালেই।

সেই হিসেবে এই ম্যাচ অনেকটা ‘ফাইনালের ট্রেলার’ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

এই ম্যাচের পর ব্রাজিল খেলবে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে, যারা ২০২২ বিশ্বকাপে তাদের বিদায় করেছিল। অন্যদিকে ফ্রান্সও নিজেদের স্কোয়াড ও কৌশল নিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে।

প্রীতি ম্যাচ হলেও, ব্রাজিল বনাম ফ্রান্স মানেই আলাদা উত্তেজনা। বিশ্বকাপের আগে এই লড়াই বলে দেবে—কে কতটা প্রস্তুত, আর কার সামনে এখনো কতটা পথ বাকি।