১০ মিনিটে ৩ গোল করে রোমার মাঠে রিয়ালের অবিশ্বাস্য জয়

ম্যাচের ৮০ মিনিট পেরিয়ে গেছে, দুই গোলে পিছিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ। রোমার মাঠ থেকে হার নিয়েই ফিরতে হচ্ছে, এমনটাই মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বদলে গেল সবকিছু। কার্লোস এস্পি ও এন্দ্রিকের গোলে সমতায় ফেরার পর আন্তোনিও রুডিগারের গোলে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। সাবেক ক্লাব রোমার মাঠে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচটা তাই স্মরণীয় হয়ে থাকল হোসে মরিনহোর জন্যও।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে রোমের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বে রোমাকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।
একপর্যায়ে ৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়া দলটি শেষ ১০ মিনিটে তিন গোল করে জয় ছিনিয়ে নেয়। রিয়ালের হয়ে গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, কার্লোস এস্পি, এন্দ্রিক ও রুডিগার। রোমার হয়ে জোড়া গোল করেন ডনিয়েল মালেন। অন্য গোলটি মার্তেন ডি রনের।
ঘরের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল রোমা। তৃতীয় মিনিটেই মারিও এরমোসোর শট ঠেকিয়ে রিয়ালকে বিপদমুক্ত করেন থিবো কোর্তোয়া। এরপরও স্বাগতিকদের আক্রমণের চাপ কমেনি। অবশেষে ২০ মিনিটে ডি রনের দূরপাল্লার শট মালেনের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ালে এগিয়ে যায় ইতালিয়ান ক্লাবটি।
তবে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সমতায় ফেরে রিয়াল। রোমার রক্ষণভাগের ভুল কাজে লাগিয়ে বক্সের বাইরে থেকে শট নেন এমবাপ্পে। জিয়ানলুকা মানচিনির পায়ে লেগে বল জড়িয়ে যায় জালে। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে দুই দলই সুযোগ তৈরি করলেও আর গোল হয়নি।
বিরতির পর আবারও রিয়ালের রক্ষণে আঘাত হানে রোমা। ৫১ মিনিটে নিজেদের অর্ধে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ভুলে বলের নিয়ন্ত্রণ হারায় মাদ্রিদ। সেই সুযোগে রদ্রিগো মোরার পাস থেকে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন মালেন।
ছয় মিনিট পর আবারও রিয়ালের রক্ষণ ভাঙেন ডাচ এই ফরোয়ার্ড। ৫৭ মিনিটে মাতিয়াস সুলের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান বাড়ান ৩-১-এ। প্রথমে অফসাইডের পতাকা উঠলেও ভিডিও প্রযুক্তির সহায়তায় গোলটি বহাল থাকে।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে আক্রমণভাগে পরিবর্তন আনেন মরিনহো। ছন্দহীন ভিনিসিয়ুসকে তুলে মাঠে নামান এন্দ্রিককে। একই সময়ে আর্দা গুলেরকেও সুযোগ দেন পর্তুগিজ কোচ। পরে মাঠে নামেন বের্নার্দো সিলভা ও কার্লোস এস্পি।
তবে ম্যাচের ৮০ মিনিট পর্যন্তও রোমার দুই গোলের লিড অক্ষত ছিল। এরপরই শুরু হয় রিয়ালের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন।
৮২ মিনিটে কর্নার থেকে এন্দ্রিকের হেড ঠেকিয়ে দেন রোমার গোলরক্ষক পিয়েরলুইজি গোল্লিনি। কিন্তু ফিরতি বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান কমান এস্পি। প্রথমে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হলেও ভিডিও প্রযুক্তির সহায়তায় সিদ্ধান্ত বদলান রেফারি।
এর কয়েক মিনিট পর আবারও কর্নার থেকে গোল পায় রিয়াল। এবার সতীর্থের নেওয়া কর্নারে লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠান এন্দ্রিক। ৮৫ মিনিটে ৩-৩ সমতায় ফেরে সফরকারীরা।
মুহূর্তের মধ্যেই পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। এতক্ষণ জয়ের অপেক্ষায় থাকা রোমা তখন নিজেদের মাঠে পরাজয় এড়ানোর চাপে।
কিন্তু স্বাগতিকদের হতাশা তখনো শেষ হয়নি। ৯০ মিনিটে আরও একটি কর্নার থেকে গোল করে রিয়ালকে এগিয়ে দেন রুডিগার। আর্দা গুলেরের নেওয়া কর্নারে জার্মান ডিফেন্ডারের গোলে পূর্ণতা পায় রিয়ালের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন।
শেষ ১০ মিনিটে তিন গোল, তিনটিই কর্নার থেকে। শেষ মুহূর্তের এই ঝড়ে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও নিজেদের মাঠে হারতে হয় জিয়ান পিয়েরো গাসপেরিনির রোমাকে।
এই জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা দুই ম্যাচ জিতল মরিনহোর দল। প্রথম ম্যাচে ইন্টার মিলানকে ২-১ গোলে হারানোর পর রোমার বিপক্ষেও জয় তুলে নিয়ে ছয় পয়েন্ট অর্জন করেছে তারা। অন্যদিকে দুই ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে কঠিন অবস্থায় পড়েছে রোমা।
