আপিলেও কমলো না শাস্তি, এল ক্লাসিকোয় নেই ভিনিসিয়ুস

এল ক্লাসিকোয় ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ফেরানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো রিয়াল মাদ্রিদ। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ক্লাবটির আপিল খারিজ করে দিয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন। ফলে আগামী ২৫ অক্টোবর বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলতে পারবেন না ভিনিসিয়ুস। তবে তাকে ফেরানোর শেষ চেষ্টা করতে এবার দেশটির ক্রীড়া প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রিয়াল।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রিয়াল মাদ্রিদের আপিল পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) আপিল কমিটি। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা বাতিল কিংবা কমানোর পক্ষে রিয়ালের দেওয়া কোনো যুক্তিই গ্রহণ করেনি কমিটি।
গত শনিবার ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে লিগ ম্যাচে প্রতিপক্ষের ফুটবলার নাথান সালিবার চুল টেনে ধরে লাল কার্ড দেখেছিলেন ভিনিসিয়ুস। পরে রেফারি ইসিদ্রো দিয়াজ দে মেরার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আক্রমণাত্মক আচরণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
এই দুই ঘটনায় বুধবার ভিনিসিয়ুসকে মোট চার ম্যাচ নিষিদ্ধ করে আরএফইএফের শৃঙ্খলা কমিটি। প্রতিপক্ষের চুল টেনে ধরার জন্য শৃঙ্খলাবিধির ১৩০.২ ধারায় দুই ম্যাচ এবং রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আচরণবিধির ১২৭ ধারায় আরও দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় তাঁকে।
তবে শাস্তি অতিরিক্ত হয়েছে দাবি করে আপিল করে রিয়াল মাদ্রিদ। ক্লাবটির যুক্তি ছিল, চুল টানার ঘটনায় শৃঙ্খলাবিধির ১৩০.২ ধারার পরিবর্তে ১২১.১ ধারা প্রয়োগ করা উচিত। তাতে নিষেধাজ্ঞা দুই ম্যাচ থেকে কমে এক ম্যাচে আসতে পারত।
পাশাপাশি রেফারির সঙ্গে আচরণের জন্য দেওয়া দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাও বাতিলের আবেদন জানায় রিয়াল। বিকল্প হিসেবে ১১৮.১ ধারা প্রয়োগের অনুরোধ করে তারা, যেখানে শাস্তি কেবল সতর্কবার্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারত।
কিন্তু আপিল কমিটি রিয়ালের কোনো যুক্তিই গ্রহণ করেনি। কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঘটনার সময় বল মাঠে খেলার মধ্যে থাকলেও ভিনিসিয়ুস ও সালিবার মধ্যে বল দখলের কোনো লড়াই চলছিল না। তাই চুল টানার ঘটনায় ১৩০.২ ধারায় দেওয়া দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা যথাযথ ছিল।
রেফারির সঙ্গে আচরণের শাস্তির ক্ষেত্রেও আগের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে কমিটি। তাদের যুক্তি, ভিনিসিয়ুস ঠিক কী শব্দ ব্যবহার করেছিলেন, রেফারি তা শনাক্ত করতে না পারলেও তার অঙ্গভঙ্গি ও আচরণের ধরন সম্পর্কে রেফারির পর্যবেক্ষণ অগ্রাহ্য করা যায় না। রেফারির প্রতিবেদনে সুস্পষ্ট কোনো ভুলও পাওয়া যায়নি।
ফলে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে লা লিগায় সেভিয়া, বার্সেলোনা, রেসিং সান্তান্দের ও ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে খেলতে পারবেন না ভিনিসিয়ুস। এরপর আগামী ২২ নভেম্বর সেল্তা ভিগোর বিপক্ষে লিগ ম্যাচ দিয়ে মাঠে ফেরার সুযোগ পাবেন তিনি।
অবশ্য এই নিষেধাজ্ঞা শুধু লা লিগার ম্যাচে কার্যকর হবে। ফলে আগামী বুধবার (২১ অক্টোবর) চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আরবি লাইপজিগের বিপক্ষে ভিনিসিয়ুসকে খেলাতে কোনো বাধা নেই রিয়ালের।
তবে ব্রাজিলিয়ান তারকাকে এল ক্লাসিকোয় ফেরানোর আশা এখনো ছাড়ছে না স্প্যানিশ জায়ান্টরা। এএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পেনের ক্রীড়া প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে (টিএডি) আপিল করবে রিয়াল মাদ্রিদ। সেখানে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি বাতিল, কমানো কিংবা সাময়িক স্থগিতের আবেদন জানানো হবে।
অবশ্য ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত মানেই ভিনিসিয়ুসের খেলার সুযোগ তৈরি হওয়া নয়। নতুন কোনো আদেশ না এলে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাই কার্যকর থাকবে।
আগামী রোববার সেভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর ২৫ অক্টোবর বার্সেলোনার মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ। লিগের গুরুত্বপূর্ণ এই দুই ম্যাচের আগে ভিনিসিয়ুসকে নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না কোচ হোসে মরিনিওর। বিশেষ করে এল ক্লাসিকোয় তাঁকে পাওয়া যাবে কি না, তা এখন নির্ভর করছে ক্রীড়া প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।
