logo

২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘিরে স্পেন-মরক্কোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা

২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘিরে স্পেন-মরক্কোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা

২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে মরক্কো, স্পেন ও পর্তুগালে। তিন দেশে আসরটি হলেও ফাইনালের লড়াইয়ে আছে স্পেন এবং মরক্কো। এখন এই দুই দেশের মধ্যে ফাইনাল কোথায় হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে হিসাব-নিকাশ। যৌথ আয়োজক হিসেবে স্পেন ও মরক্কো দু’দেশই চায় শেষ ম্যাচটি নিজেদের মাটিতে হোক। কিন্তু সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা বলছে, সংগঠন দক্ষতায় স্পেন এখনো মরোক্কোর চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে।

চলতি বছরের শুরুতে রাবাতে অনুষ্ঠিত আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনাল মরক্কোর জন্য অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়ায়। মরক্কো ও সেনেগালের সেই ম্যাচ ঘিরে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস পর্যন্ত গড়ায়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটি মরক্কোর জন্য বড় ধরনের বিব্রতকর ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ওই ঘটনার মাত্র তিন মাস পরই সেভিয়ায় অনুষ্ঠিত কোপা দেল রে ফাইনাল ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। আটলেটিকো মাদ্রিদ ও রিয়াল সোসিয়েদাদের ম্যাচটি প্রায় ৭২ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। দুই দলের সমর্থকদের সমান উপস্থিতি, নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় নিখুঁত সমন্বয়, সব মিলিয়ে এটি ছিল এক উৎসবমুখর আয়োজন।

শুধু এই ম্যাচই নয়, বড় ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে স্পেনের ধারাবাহিক সাফল্য ফিফার নজর কাড়ছে। সেভিয়াতেই ইউরোপা লিগে বেতিস ও ব্রাগার ম্যাচে কয়েক হাজার পর্তুগিজ সমর্থক শহরে ছড়িয়ে থাকলেও কোনো সমস্যা হয়নি। এমনকি আর্জেন্টিনায় বিতর্কের পর হঠাৎ করে মাদ্রিদে আয়োজিত কোপা লিবার্তাদোরেস ফাইনালও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছিল।

এই অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাই ফিফাকে ভাবাচ্ছে। ফলে সম্ভাব্য ফাইনাল ভেন্যু হিসেবে কাসাব্লাঙ্কার চেয়ে মাদ্রিদই এখন এগিয়ে রয়েছে।

মরক্কো অবশ্য পিছিয়ে থাকতে রাজি নয়। কাসাব্লাঙ্কায় তাদের নতুন অত্যাধুনিক স্টেডিয়ামের কাজ প্রায় শেষ। শিগগিরই এর প্রথম ছবি প্রকাশ করা হবে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রচারণাও চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শুধুমাত্র অবকাঠামো নয়, বড় আয়োজন সফলভাবে পরিচালনার ধারাবাহিক অভিজ্ঞতাই এখানে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর।

স্পেন ইতিমধ্যে আগামী বছরের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে। ২০২৯ সালের ফাইনাল আয়োজনের জন্য ক্যাম্প ন্যুও দৌড়ে আছে। এ ছাড়া সান মামেস নারী ফুটবলের বড় ফাইনাল আয়োজনের জন্য বিবেচনায় রয়েছে। নারী ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, বিশ্বকাপ, যুব টুর্নামেন্ট কিংবা ফিফা ও উয়েফা কংগ্রেস আয়োজনের ক্ষেত্রেও স্পেন নিয়মিত প্রার্থী।

সব মিলিয়ে ফুটবল আয়োজনের মানদণ্ডে স্পেন এখন একটি প্রতিষ্ঠিত নাম। মরক্কোর লক্ষ্য সেই উচ্চতায় পৌঁছানো। কিন্তু ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল ভেন্যু নির্ধারণে অভিজ্ঞতা ও নির্ভরযোগ্যতার দিকটি যে বড় ভূমিকা রাখবে, তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। 

সূত্র: দিয়ারিও এস