বিশ্বকাপের আগে মাত্র একটি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা!

বিশ্বকাপের আগে বড় এক সমস্যায় পড়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দল। দলে আছেন অভিজ্ঞ তারকারা, মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ—প্রায় প্রতিটি জায়গায় শক্ত ভিত্তি। তবু ২০২৬ বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন যখন দ্রুত এগিয়ে আসছে, তখন এক অদ্ভুত উদ্বেগ ঘিরে ধরেছে আর্জেন্টিনা শিবিরকে। কারণ, মাঠে নামার সুযোগই যেন মিলছে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে লিওনেল স্কালোনির দলের বিশ্বকাপের আগে হয়তো খেলতে হবে মাত্র একটি ম্যাচ—স্পেনের সঙ্গে ফিনালিসিমা। সেটিও শেষ পর্যন্ত হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
আগামী ২৭ মার্চ ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে ফিনালিসিমা হওয়ার কথা ছিল কাতারে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক হামলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে এবং সব ধরনের ক্রীড়া কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
ফলে ম্যাচটি কাতারে হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়াম ও নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম আয়োজনে আগ্রহ দেখালেও শীর্ষ কর্মকর্তারা ম্যাচটি ইউরোপে সরিয়ে নেওয়ার পক্ষেই জোর দিচ্ছেন।
ফিনালিসিমার চার দিন পর কাতারে একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল উৎসবে আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল—যেখানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল স্পেন, মিসর, সৌদি আরব ও সার্বিয়ারও। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেই আয়োজন কার্যত বাতিল হয়ে গেছে।
এরপর জুনের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে মেক্সিকো ও হন্ডুরাসের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচের সূচিও বাদ পড়েছে আর্জেন্টিনার ক্যালেন্ডার থেকে। লাস ভেগাস ও মায়ামিতে হওয়ার কথা ছিল ম্যাচ দুটি।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার হাতে প্রায় কোনো ম্যাচই নেই। ফলে কৌশল পরীক্ষা, একাদশ ঠিক করা কিংবা দলগত সমন্বয় ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে যদি নতুন কোনো প্রতিপক্ষ শেষ মুহূর্তে পাওয়া না যায়, তবে স্কালোনির দলের জন্য ফিনালিসিমাই হবে একমাত্র বড় পরীক্ষা—বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাইয়ের শেষ মঞ্চ।
বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র প্রায় ১০০ দিন বাকি। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে ১৬ জুন, কানসাসে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে।
কিন্তু মাঠে খেলার সুযোগের বদলে আপাতত যেন ‘মানসিক প্রস্তুতি’ নিয়েই এগোতে হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য এটা অস্বস্তিকর বাস্তবতা—সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে, অথচ বল গড়ানোর সুযোগ মিলছে খুবই কম।
সূত্র : টিওয়াইসি স্পোর্টস