logo

ফুটবল বিশ্বকাপের পথে বাংলাদেশের মেয়েরা! 

ফুটবল বিশ্বকাপের পথে বাংলাদেশের মেয়েরা! 

পিটার বাটলার, আফঈদা খন্দকার আর মাহফুজা আক্তার কিরণ, কতবারই তো এভাবে দাঁড়িয়েছেন গণমাধ্যমের সামনে! তবে এবারের দাঁড়ানোটা যে শুধুই ফটোশুট নয়, অনেকটা প্রাপ্তির। বাটলার আফঈদাদের যে এবার আর হারানোর কিছু নেই, যা আছে কেবলই পাবার। আফঈদার নেতৃত্বে এবার বাংলাদেশের মেয়েরা এমন এক লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছে যেখানে ইতিহাসে মাত্র একবারই খেলার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশের ছেলেরা। নারী এশিয়ান কাপের এই লড়াইটা আফঈদাদের জন্য যতটা অংশগ্রহণের তার চেয়েও বড় ব্যাপার হাতছানি দিচ্ছে আরও বড় অর্জন। 

অস্ট্রেলিয়ার পাঁচ ভেন্যুতে হতে যাওয়া নারী এশিয়ান কাপে লড়বে মোট ১২ দল। যেখান থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা আট দলের সামনেই সুযোগ থাকবে ২০২৭ ব্রাজিল বিশ্বকাপ এবং ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকে খেলার। তাই তো বাছাইপর্বে দুর্দান্ত করা বাংলাদেশের সামনে আছে বেশ ভালো সুযোগ। 

১২ দলের এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ আছে বি গ্রুপে। যেখানে পিটাল বাটলারের শীষ্যদের প্রতিপক্ষ চীন, উত্তর কোরিয়া আর উজবেকিস্তান। কতেটা কঠিন লড়াই করতে হবে, দলগুলোর স্ট্যাটসের দিকে তাকালেই তা হয়ে যায় পরিষ্কার। 

এশিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচে ৩ মার্চ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চীন। যারা ১৯৮৬ সাল থেকে নিয়মিত খেলে এই টুর্নামেন্ট; ১৪ বারের অংশগ্রহণে ৯ বারই শিরোপা তুলেছে নিজেদের ঘরে। তবে সবচেয়ে ভয়ের কারণ এশিয়ান কাপে চীন এখন পর্যন্ত ৭৫ ম্যাচ খেলে গোল করেছে ৩৬৭টি। গড়ে প্রতি ম্যাচে প্রায় পাঁচটি করে গোল করার ক্ষমতা থাকা এই দলটার সঙ্গে বাংলাদেশের র‌্যাঙ্কিয়ের পার্থক্যটাও বেশ নজর কাড়া। 

৬ মার্চ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ, এশিয়ান কাপের আরও এক সফল দেশ উত্তর কোরিয়া। ওরাও বাংলাদেশের চেয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে আছে ১০৩ ধাপ। তবে ভয়ংকর ব্যাপার ওই গোল করার রেশিও। এশিয়ান কাপে ৫৩ ম্যাচ খেলা উত্তর কোরিয়ার গোল ২৪১। ১৯৮৯ সাল থেকে ১০ বার এশিয়ান কাপ খেলা এই দেশটি এখন পর্যন্ত শিরোপা ঘরে তুলেছে ৩ বার। 

আগের দুই দেশের চেয়ে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ৯ মার্চ তাদের বিপক্ষে লড়বে বাংলাদেশ। আগের পাঁচ আসর খেললেও একবারও ওরা পার করতে পারেনি গ্রুপ পর্বের বাধা। এমনকি ১৬ ম্যাচে উজবেকিস্তান ১৫ গোলের বিপরীতে হজম করেছে ৬৫ গোল। তবে এবারের বাছাইপর্বে এই উজবেকিস্তানই হারিয়েছে চীন আর কোরিয়াকে। তাই তো পরিসংখ্যানে দেখে কিছুটা সহজ মনে হলেও মাঠের খেলায় বাংলাদেশকে দিতে হবে কঠিন পরীক্ষা।

প্রতিপক্ষ কঠিন হলেও অবশ্য খুব একটা ভীত নয় বাংলাদেশের মেয়েরা। নিজেদের সহজাত খেলা খেলতে পারলেই ভালো সাফল্য আসবে বলেই বিশ্বাস করেন বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার। 

আফঈদা যতই আত্মবিশ্বাস দেখাক, বাস্তবতা হচ্ছে, এত বড় একটা টুর্নামেন্টের আগে বাংলাদেশ নিতে পারেনি খুব একটা ভালো প্রস্তুতি। ৫৫ ম্যাচ আর ৪১৫ গোলের একপেশে একটা ঘরোয়া লিগে রুপনা চাকমা হয়তো হজম করেনি কোনো গোল, কিন্তু চীন আর দক্ষিণ কোরিয়ার সামনে তাকে দিতে হবে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।