logo

রিয়াল প্রার্থীর ‘হলান্ড চমক’, আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে ম্যান সিটি

রিয়াল প্রার্থীর ‘হলান্ড চমক’, আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে ম্যান সিটি
আর্লিং হলান্ড। ছবি: সংগৃহীত

রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি নির্বাচনকে ঘিরে আর্লিং হলান্ডের নাম জড়িয়ে বড় দাবি করেছিলেন এনরিকে রিকেলমে। তবে সেই দাবি সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। শুধু তাই নয়, নরওয়েজীয় এই স্ট্রাইকারের নাম ও ছবি নির্বাচনি প্রচারে ব্যবহার করায় ইংলিশ ক্লাবটি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও ভাবছে।

রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি নির্বাচনে বর্তমান সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন ৩৭ বছর বয়সি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবসায়ী রিকেলমে। বুধবার রাতে স্প্যানিশ টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘এল হরমিগুয়েরো’তে হাজির হয়ে তিনি দাবি করেন, নির্বাচনে জিতলে রিয়ালে তার বড় ‘সাইনিং’ হবেন হলান্ড। অনুষ্ঠানে হলান্ডের নাম ও ৯ নম্বর লেখা রিয়াল মাদ্রিদের একটি জার্সিও দেখান তিনি।

রিকেলমের দাবি, হলান্ডের চুক্তিতে ‘রিলিজ ক্লজ’ আছে এবং সিটি স্ট্রাইকার নিজেও সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আসতে চান। তার ঘোষণা আরও এক ধাপ এগিয়ে যায় যখন তিনি বলেন, সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর হলান্ডকে আনতে না পারলে আগামী মৌসুমে রিয়ালের প্রায় এক লাখ সমর্থকের সদস্য ফি ফেরত দেবেন।

haaland jersey
haaland jersey

এমন বক্তব্যের পর দ্রুতই প্রতিক্রিয়া এসেছে হলান্ডের পক্ষ থেকে। তার ঘনিষ্ঠ মহল রিকেলমের মন্তব্যকে ‘বিনোদনমূলক কিন্তু সত্য নয়’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এরপর আরও কড়া অবস্থান নিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি।

সিটির এক মুখপাত্র জানান, স্পেন থেকে হলান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেসব খবর এসেছে, সেগুলো ভিত্তিহীন। এমন কোনো সম্ভাবনা নেই এবং হলান্ডের চুক্তিতে এমন কোনো ধারা নেই, যা এই দলবদলের পথ সুগম করতে পারে। একই সঙ্গে ক্লাবটি জানিয়েছে, এভাবে তাদের খেলোয়াড়ের ছবি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে তারা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতেই ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে নতুন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছেন হলান্ড। সেই চুক্তি অনুযায়ী ২০৩৪ সাল পর্যন্ত ইতিহাদ স্টেডিয়ামেই থাকছেন তিনি। তাই সিটির অবস্থান পরিষ্কার হলান্ডকে নিয়ে রিয়াল প্রার্থীর দাবির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

স্প্যানিশ ফুটবলের রাজনীতি ও রিয়াল মাদ্রিদের নির্বাচন ঘিরে বড় তারকার নাম টেনে প্রচার চালানো নতুন কিছু নয়। অতীতেও ক্লাবটির সভাপতি নির্বাচনে বড় খেলোয়াড় দলে ভেড়ানোর প্রতিশ্রুতি অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে হলান্ড ইস্যুতে পরিস্থিতি ভিন্ন। কারণ, এখানে শুধু দলবদলের গুঞ্জনই নয়, সিটির দাবি অনুযায়ী তাদের চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়ের ‘ইমেজ’ নির্বাচনি প্রচারে অনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

রিকেলমে শুধু হলান্ডের নামই তোলেননি; তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচনে জিতলে ম্যানচেস্টার সিটির আরেক তারকা রদ্রিকেও রিয়ালে নিয়ে আসবেন। স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডারের সঙ্গে সিটির চুক্তির মেয়াদ আগামী মৌসুমের শেষেই ফুরিয়ে যাবে। তবে সিটির অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট এই গ্রীষ্মে রদ্রিকে ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

রিয়াল নির্বাচনে অবশ্য এখনও ফ্লোরেন্তিনো পেরেজকেই বড় ফেবারিট ভাবা হচ্ছে। ৭৯ বছর বয়সি পেরেজ ২০০০ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ক্লাবটির নেতৃত্বে আছেন এবং রিয়ালের আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী সভাপতি হিসেবে বিবেচিত। তার শক্তিশালী অবস্থানের বিপক্ষে লড়াই করতে গিয়েই রিকেলমে এই বড় প্রতিশ্রুতির পথ বেছে নিয়েছেন।

রিকেলমে এর আগে রিয়ালের সাবেক দুই ফুটবলার রাউল গনসালেস ও ফের্নান্দো হিয়েরোকে নিজের সম্ভাব্য প্রশাসনিক প্যানেলে রাখার কথা জানিয়েছিলেন। এবার হলান্ড ও রদ্রিকে ঘিরে তার মন্তব্য নির্বাচনি মাঠকে আরও উত্তপ্ত করেছে।

অন্যদিকে পেরেজও নির্বাচনি আবহে বড় চমকের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনে জিতলে হোসে মরিনহোকে পুনরায় কোচ করার পরিকল্পনা আছে তাঁর। একই সঙ্গে লিভারপুল ছাড়ার পর ইব্রাহিমা কোনাতেকে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে আনা এবং ইন্টার মিলানের ডেনজেল ডামফ্রিসকে দলে নেওয়ার গুঞ্জনও রয়েছে।

তবে সব আলোচনার কেন্দ্রে এখন হলান্ড। রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবের সঙ্গে তার নাম জড়ানো দলবদল বাজারে উত্তাপ তৈরি করতেই পারে, কিন্তু ম্যানচেস্টার সিটি এবার সেটিকে সাধারণ গুঞ্জন হিসেবে নিচ্ছে না। ক্লাবটির কড়া প্রতিক্রিয়া বুঝিয়ে দিচ্ছে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির নামে তাদের খেলোয়াড়কে ব্যবহার করার বিষয়টি তারা মোটেও সহজভাবে নিচ্ছে না।