বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে মরক্কোর দাবি, সিদ্ধান্ত হয়নি বলছে ফিফা

২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল নিজেদের দেশেই হবে বলে দাবি করেছে মরক্কো। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফাওজি লেকজা ভেন্যুর নামও জানিয়ে দিয়েছেন। তবে তার ঘোষণায় সিলমোহর দেয়নি ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, ফাইনাল কোথায় হবে, সে সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মরক্কোর বুজনিকায় একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে লেকজা বলেন, ‘বেনস্লিমান প্রদেশ ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের সম্মান পাবে।’
এই বক্তব্যের পর স্প্যানিশ সংবাদ সংস্থা এফেকে ফিফার এক মুখপাত্র জানান, ‘যথাসময়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ গত ৫ আগস্টও একই অবস্থান জানিয়েছিল সংস্থাটি।

মরক্কোর প্রস্তাবিত ভেন্যু দ্বিতীয় গ্র্যান্ড হাসান স্টেডিয়াম। কাসাব্লাঙ্কা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে বেনস্লিমানে নির্মিত হচ্ছে এটি। ১ লাখ ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামটি শুধু ফুটবলের জন্য নির্মিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভেন্যু হওয়ার কথা। এর নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি ডলার।
ফাইনাল আয়োজনের লড়াইয়ে মরক্কোর বড় প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক সহ-আয়োজক স্পেন। দেশটির প্রস্তাবিত ভেন্যুর তালিকায় আছে রিয়াল মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ও বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল লুসানও ফাইনাল নিজেদের দেশে আয়োজনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
মরক্কোর দাবির পর মুখ খুলেছেন লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাসও। স্পেনের স্টেডিয়াম ও অবকাঠামোর সুবিধা তুলে ধরে তিনি ফাইনাল আয়োজনের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। একই সঙ্গে ফিফার বক্তব্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেছেন, ‘ফিফার কোনো অস্বীকারই আমি বিশ্বাস করি না।’
ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। গত আগস্টে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছিল, পুনর্নির্বাচনে সমর্থন নিশ্চিত করতে মরক্কোকে ফাইনাল আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সে সময়ও খবরটিকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল ফিফা।
বিশ্বকাপের শতবর্ষের আসরটি যৌথভাবে আয়োজন করবে মরক্কো, স্পেন ও পর্তুগাল। শতবর্ষ উদ্যাপনের অংশ হিসেবে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতেও একটি করে ম্যাচ হবে। ফলে প্রথমবার তিন মহাদেশের ছয় দেশে অনুষ্ঠিত হবে ফুটবল বিশ্বকাপ।


