চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ভিনির জাদুতে বদলে গেল বার্নাব্যু

মাত্র এক ম্যাচ আগেই যে বার্নাব্যু ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আর রিয়াল মাদ্রিদের দিকে দুয়ো ছুড়ে দিয়েছিল, সেই একই গ্যালারি আজ দাঁড়িয়ে হাততালি দিল ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারের জন্য। লেভান্তের বিপক্ষে ক্ষুব্ধ দর্শকের হুইসেল আর হতাশার রাতের পর, বুধবার ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফুটবল প্রতিযোগিতা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদ যেন একেবারে ভিন্ন চেহারায় ফিরল; আর এই বদলের কেন্দ্রে ছিলেন ভিনিসিয়ুস। এক গোল আর দুই অ্যাসিস্টে তিনি শুধু ম্যাচ জেতাননি, বরং আবারও দর্শকের আস্থা ফিরিয়ে এনেছেন।
মোনাকোর বিপক্ষে শুরু থেকেই রিয়াল দেখাতে চেয়েছিল, তারা এখনো বার্নাব্যুর দল। মাত্র পাঁচ মিনিটেই কিলিয়ান এমবাপ্পে গোল করে ম্যাচের সুর বদলে দেন। ভ্যালভার্দে– মাস্তান্তুয়োনোর সমন্বয় থেকে বল পেয়ে ঠান্ডা মাথার ফিনিশে এগিয়ে দেন ফরাসি তারকা— আর স্টেডিয়ামে নেমে আসে স্বস্তির নিঃশ্বাস।
এরপরই আলো ছড়াতে শুরু করেন ভিনিসিয়ুস। আর্দা গুলারের ডায়াগোনাল পাস ধরে তিনি এমবাপ্পের দ্বিতীয় গোল বানিয়ে দেন— এক স্পর্শে ফিনিশ। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে নিজেই বক্সের বাইরে থেকে টপ-কর্নারে চোখধাঁধানো শটে জাল কাঁপান। আরও একটি অ্যাসিস্টও আসে তার পা থেকে, যা প্রতিপক্ষের ক্লিয়ারেন্সে আত্মঘাতী গোল হয়ে যায়।
ম্যাচটি ছিল তরুণ আর্জেন্টাইন মাস্তান্তুয়োনোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। মাঝমাঠে সাহসী উপস্থিতি আর ভ্যালভার্দের সঙ্গে বোঝাপড়ায় তিনি রিয়ালের আক্রমণে নতুন গতি যোগ করেন। আর্দা গুলারও নিজের সৃজনশীলতা দেখান একাধিক কিলার পাসে। সেই সঙ্গে তার পা থেকে আসে দলের তৃতীয় গোল। আর দলের ষষ্ঠ ও শেষ গোল আসে জুড বেলিংহ্যামের পা থেকে।
মোনাকো অবশ্য ধারেকাছে আসতে পারেনি। তেজের দূরপাল্লার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে, আর বালোগুনের প্রচেষ্টা রুখে দেন থিবো কোর্তোয়া— যিনি আবারও প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান। রিয়ালের পাঁচ গোলের পর , ডিফেন্সের ভুলে একটি সান্ত্বনার গোল উপহার পায় ফরাসি লিগে খেলা দলটি।