ম্যারাডোনার মৃত্যু মামলায় বড় ভুল

দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর কারণ খুঁজতে গিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে অন্য এক দিয়েগোর মেডিকেল রিপোর্ট। সেই ব্যক্তি আর কেউ নন, আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির বাবা দিয়েগো সালুসতিয়ানো ম্যারাডোনা। বিস্ময়কর এই ভুলের কারণে এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে বহুল আলোচিত মামলার কার্যক্রম।
আর্জেন্টিনার স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠান সুইস মেডিকেল ভুলটির কথা স্বীকার করেছে। সোমবার এএফপির দেখা এক চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, দিয়েগো সালুসতিয়ানোর স্বাস্থ্য পরীক্ষার নথি ভুল করে তার ছেলের পূর্ণ নাম ‘দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা’র নামে সংরক্ষিত ছিল। সেই ভুল নথিই পরে ম্যারাডোনার মৃত্যুর তদন্তে গঠিত চিকিৎসা কমিশনের কাছে পাঠানো হয়।
ম্যারাডোনার বাবাও দিয়েগো নামেই পরিচিত ছিলেন। ২০১৫ সালে মারা যান তিনি, ছেলের মৃত্যুর পাঁচ বছর আগে।
গত সপ্তাহে মামলার সাত অভিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীর একজনের আইনজীবী নথিতে এই গরমিল শনাক্ত করেন। এরপরই সামনে আসে, ম্যারাডোনার কিডনির অবস্থা নিয়ে আদালতে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞ মতামতটি তার নিজের পরীক্ষার ফলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়নি।
মামলার শেষ পর্যায়ে ম্যারাডোনার কিডনির স্বাস্থ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছিল। এক কিডনি বিশেষজ্ঞ আদালতে বলেছিলেন, তার চিকিৎসকদের আরও আগেই কিডনির সমস্যাকে সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা উচিত ছিল। এখন জানা গেল, সেই বিশ্লেষণের ভিত্তিই ছিল ভুল রিপোর্ট।
২০২০ সালের নভেম্বরে ৬০ বছর বয়সে মারা যান বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। মস্তিষ্কে জমাট বাঁধা রক্ত অপসারণের অস্ত্রোপচারের দুই সপ্তাহ পর বুয়েনস আইরেসের তিগ্রে এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া ও ফুসফুসে তরল জমে যাওয়াকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
মৃত্যুর আগের দিনগুলোতে ম্যারাডোনাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে তার চিকিৎসক দলের বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত সাত স্বাস্থ্যকর্মীই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মেডিকেল রিপোর্টে নতুন এই ভুল ধরা পড়ায় বিচারকাজ এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়। গত বছর এক বিচারকের স্বার্থের সংঘাত নিয়ে বিতর্কের কারণে প্রথম বিচারপ্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ার পর এটি আদালতের জন্য নতুন বিব্রতকর ঘটনা।
এপ্রিলে শুরু হওয়া নতুন বিচার বৃহস্পতিবার আবার শুরু হওয়ার কথা। মামলার কার্যক্রম অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে।



