বিশ্বকাপে ইরানের খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বাস্তবতার মধ্যেই ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, সেটি এখন কিছুটা হলেও কাটতে শুরু করেছে।
তুরস্কে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বৈঠক থেকে মিলেছে ইতিবাচক ইঙ্গিত। বৈঠকের পর স্পষ্ট হয়েছে বিশ্বকাপের সূচি পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই এবং ইরানের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রেই আয়োজন করা হবে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকেই ইরানের বিশ্বকাপ যাত্রা অনিশ্চয়তায় পড়ে। একসময় দেশটির ভেতর থেকেই শোনা গিয়েছিল দল হয়তো টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না, কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া সম্ভব না-ও হতে পারে। এমনকি ম্যাচ মেক্সিকোতে সরানোর প্রস্তাবও আলোচনায় আসে।
তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। ফিফা তাদের অবস্থানে অনড়, ইরান বিশ্বকাপে খেলবে এবং নির্ধারিত সূচিই বহাল থাকবে।
এরই মধ্যে মাঠে ফেরার প্রস্তুতিও শুরু করেছে ইরান দল। তুরস্কে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে তারা—নাইজেরিয়ার কাছে হারের পর কোস্টারিকার বিপক্ষে বড় জয় পেয়েছে। ম্যাচগুলো হয়েছে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে, কড়া নিরাপত্তার মধ্যে।
মাঠের বাইরেও ছিল বার্তা। জাতীয় সংগীতের সময় খেলোয়াড়দের হাতে দেখা গেছে যুদ্ধের শিকার শিশুদের প্রতীকী ছবি, যা ছিল এক ধরনের নীরব প্রতিবাদ।
সবকিছু ঠিক থাকলে জুনের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় ক্যাম্পে যোগ দেবে ইরান দল। ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের বিশ্বকাপ মিশন।
তবে চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে। দেশীয় লিগ বন্ধ, খেলোয়াড়দের ম্যাচ অনুশীলনের অভাব, ভিসা জটিলতা সব মিলিয়ে প্রস্তুতি সহজ নয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও কিছুটা জটিল করেছে। কখনো তিনি নির্লিপ্ত, আবার কখনো নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা বলেছেন।
সব মিলিয়ে, অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। তবে একটি বিষয় এখন পরিষ্কার, সব বাধা পেরিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে চায় ইরান।