logo

২০ বছর পর ভোট, আবারও রিয়াল সভাপতি পেরেজ

২০ বছর পর ভোট, আবারও রিয়াল সভাপতি পেরেজ
ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। ছবি: সংগৃহীত

২০ বছর পর প্রথমবার ব্যালট যুদ্ধের মুখোমুখি হয়েও নিজের সিংহাসন ধরে রাখলেন ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। ক্লাব সদস্যদের সরাসরি ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী এনরিকে রিকেলমেকে হারিয়ে আরও চার বছরের জন্য স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ৭৯ বছর বয়সি এই প্রভাবশালী সংগঠক। ঐতিহাসিক এই নির্বাচনে পেরেজ পেয়েছেন ৬৫ শতাংশ ভোট।

রিয়ালের নির্বাচনি ইতিহাসে এই নির্বাচনটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যের। কারণ, বিগত দুই দশকে রিয়ালে কোনো ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। এর আগে ২০০৯, ২০১৩, ২০১৭, ২০২১ ও ২০২৫ সালের নির্বাচনী চক্রে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিনা ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন পেরেজ। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী তার মেয়াদের শেষ সময় ছিল ২০২৯ সাল পর্যন্ত। তবে গত ১২ মে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নিজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে আকস্মিক আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন তিনি। টানা দুই মৌসুম বড় কোনো শিরোপা না পাওয়ায় এই নির্বাচনকে মূলত ক্লাবে পেরেজের নিজের শক্তি ও জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছিলেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

নির্বাচনে পেরেজের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ৩৭ বছর বয়সী নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবসায়ী এনরিকে রিকেলমে। প্রায় এক লাখ রিয়াল সদস্যের এই নির্বাচনে রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। ব্যালট বাক্সে পেরেজের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি বলেন, ‘সব ভোটকেন্দ্রেই আমরা বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছি। এটি রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফলাফল।’ তবে এক হাজারেরও বেশি পোস্টাল (ডাকযোগে আসা) ভোট বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

নির্বাচনে হারলেও পেরেজের দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র আধিপত্যের সামনে কিছু কঠিন প্রশ্ন দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন তরুণ রিকেলমে। বিশেষ করে ক্লাবে বহিরাগত বা করপোরেট বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে পেরেজের প্রচ্ছন্ন পরিকল্পনার বিপরীতে সদস্যদের মালিকানা কাঠামো ধরে রাখার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি।

রিকেলমে বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তিনি রিয়াল মাদ্রিদকে শতভাগ সদস্য-মালিকানাধীন রাখতে চান এবং ক্লাব বিক্রির সব পথ বন্ধ করতে চান। পরাজয়ের পরও হাল ছাড়ছেন না জানিয়ে রিকেলমে বলেন, ‘এটি কোনো কিছুর শেষ নয়; বরং রিয়ালকে সদস্যদের ক্লাব হিসেবে রক্ষার এক নতুন যাত্রার শুরু মাত্র।’ নির্বাচনি প্রচারণায় আর্লিং হালান্ডকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আনার বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েও সদস্যদের একাংশের নজর কেড়েছিলেন তিনি।

ডাগআউটে মরিনিও এবং নতুন ‘গ্যালাকটিকো’র আভাস

নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার পর পেরেজের মূল নজর এখন রিয়ালের ডাগআউট ও দলবদলের বাজারের দিকে। নির্বাচনি প্রচারণায় পেরেজ প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, জয়ী হলে তিনি জোসে মরিনিওকে আবারও রিয়ালের প্রধান কোচ হিসেবে ফিরিয়ে আনবেন।

সেই অনুযায়ী এবার পর্তুগিজ কোচের সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। বর্তমানে বেনফিকায় থাকা মরিনিওকে আনতে রিয়ালকে ১৫ মিলিয়ন ইউরো রিলিজ ক্লজ দিতে হবে। মরিনিওর সঙ্গে তার বেনফিকার পুরো সহকারী প্যানেলও রিয়ালে যোগ দিচ্ছেন।

একই সঙ্গে দলবদলের বাজারে বড় ধামাকার ইঙ্গিত দিয়ে পেরেজ স্প্যানিশ টিভিতে জানিয়েছেন, প্রিমিয়ার লিগের বাইরে থাকা এক রহস্যময় ‘টোটাল গ্যালাকটিকো’ ফুটবলারের জন্য ১৫০ মিলিয়ন ইউরোর ক্লাব রেকর্ড প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে রিয়াল। এ ছাড়া লিভারপুল ছেড়ে দেওয়া ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতেকে ফ্রি ট্রান্সফারে আনা এবং ইন্টার মিলানের ডেনজেল ডামফ্রিসের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন তিনি। দানি কারভাহাল ও দাভিদ আলাবার চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ায় রিয়ালের রক্ষণভাগ পুনর্গঠনই এখন নতুন কোচের প্রধান চাওয়া।

আপাতত ভোটের লড়াইয়ে পেরেজ পার পেয়ে গেলেও, তার প্রকৃত স্বস্তি নির্ভর করছে আগামী ২০২৬-২৭ মৌসুমের মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর। মরিনিওর দ্বিতীয় অধ্যায় সফল হলে পেরেজের ক্ষমতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে। তবে ২০ বছর পর হওয়া এই নির্বাচন একই সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভিন্ন মত ও বিকল্প নেতৃত্বের উপস্থিতির স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রাখল। এখন মাঠের সাফল্য দিয়ে নিজের সেই ক্ষয়ে যাওয়া কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধার করাই হবে পেরেজের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।