logo

ইউরোপীয় দলের মুখোমুখি না হয়েই বিশ্বকাপে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা

ইউরোপীয় দলের মুখোমুখি না হয়েই বিশ্বকাপে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে আর্জেন্টিনা। স্পেনের বিপক্ষে নির্ধারিত ফিনালিসিমা ম্যাচ বাতিল হয়ে যাওয়ায় এবার প্রথমবারের মতো কোনো ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে না খেলেই বিশ্বকাপে যেতে পারে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে স্পেনের সঙ্গে ফিনালিসিমা আয়োজন সম্ভব হয়নি। এরপর বিকল্প ভেন্যু নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলেও আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ), কনমেবল, উয়েফা ও স্পেনের ফুটবল ফেডারেশনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হয়নি। ফলে ম্যাচটি বাতিল হয়ে যায়।

এর ফলে আর্জেন্টিনা দলের প্রস্তুতিতে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে লিওনেল স্কালোনির দল আর কোনো ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। যদি সেটিই হয়, তবে বিশ্বকাপের চার বছরের প্রস্তুতি চক্রে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে একটিও ম্যাচ না খেলেই টুর্নামেন্টে যাওয়ার ঘটনা হবে আর্জেন্টিনার ইতিহাসে প্রথম।

এর আগে কাতার বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্বে আর্জেন্টিনা জার্মানির সঙ্গে ২০১৯ সালে প্রীতি ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র করেছিল। ২০২২ সালে ফিনালিসিমায় ইতালিকে ৩-০ গোলে হারায় এবং একই বছরে এস্তোনিয়ার বিপক্ষেও ম্যাচ খেলেছিল।

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ প্রস্তুতির ইতিহাসে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ হয়েছিল ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপের আগে। সেসময় সিজার লুইস মেনোত্তির দল ইউরোপের বিভিন্ন দলের বিপক্ষে মোট ২২টি ম্যাচ খেলেছিল।

এদিকে ফিনালিসিমা বাতিল হওয়ায় কোচ লিওনেল স্কালোনি পরিকল্পনায় পড়েছেন বড় ধরনের সমস্যায়। তিনি ইতোমধ্যেই সম্ভাব্য স্কোয়াডের একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেছিলেন এবং ক্লাবগুলোকে সম্ভাব্য ডাকের বিষয়ে অবহিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু ম্যাচ বাতিল হওয়ায় সেই পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত হয়ে গেছে।

এর পাশাপাশি কাতারের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনাও ছিল আর্জেন্টিনার, যা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আগেই বাতিল হয়ে যায়। ফলে বিশ্বকাপের আগে স্কালোনির হাতে এখন কোনো নির্ধারিত ম্যাচ নেই, যা দল গঠনের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে এএফএর সামনে এখন দুটি সম্ভাব্য পথ খোলা রয়েছে। একটি হলো ফিফা উইন্ডো কাজে লাগিয়ে নতুন কোনো প্রতিপক্ষ খুঁজে বের করা। অন্যটি হলো খেলোয়াড়দের ক্যাম্পে ডেকে বুয়েনস আইরেসের এজেইজায় কয়েক দিন অনুশীলন করানো এবং সম্ভব হলে সেখানে একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা করা।

যাই হোক, ফিনালিসিমা বাতিলের প্রভাব এখন শুধু একটি ম্যাচের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এটি আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতেও তৈরি করেছে এক ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি।