দুই গোলে এগিয়ে থেকেও বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য হার
-1775059781-9647_1775059820.webp)
ম্যাচের গল্পটা যেন একেবারে বদলে গেল চোখের সামনে। শুরুতে যিনি ছিলেন নায়িকা, শেষ পর্যন্ত তিনিই দেখলেন হতাশার পরিণতি। সাগরিকার জোড়া গোলে দুই গোলে এগিয়ে থেকেও থাইল্যান্ডের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে গেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী দল।
পাথুম থানির থামাসাত স্টেডিয়ামে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচে শুরুটা ছিল বাংলাদেশের জন্য কঠিন। প্রথম ২০ মিনিট প্রায় পুরোটা সময়ই রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত ছিল দল। মাঝমাঠে বল ধরে রাখতে পারছিল না, আক্রমণ গড়ার সুযোগও কম ছিল।
এই অবস্থায় কোচ পিটার বাটলার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন। মাঝমাঠে পরিবর্তন এনে কিছুটা ভারসাম্য ফেরানোর চেষ্টা করেন তিনি। সেই পরিবর্তনের পর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে বাংলাদেশ।
এরপরই আসে ম্যাচের প্রথম বড় মুহূর্ত। ৩৬ মিনিটে মৌমিতা খাতুনের দারুণ পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন সাগরিকা। পেছন থেকে চাপ আসার আগেই ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।
বিরতির আগ পর্যন্ত থাইল্যান্ড কয়েকবার আক্রমণ করলেও বাংলাদেশের গোলকিপার মিলি আক্তার ছিলেন সতর্ক। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়েই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা আরও ভালো হয়। ৫০ মিনিটে আবারও সাগরিকা। এবার উমহেলা মারমার পাস পেয়ে নিখুঁত শটে ব্যবধান বাড়ান তিনি। তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটা বাংলাদেশের দিকেই ঝুঁকে গেছে।
কিন্তু সেখান থেকেই বদলে যায় দৃশ্যপট। থাইল্যান্ড ধীরে ধীরে চাপ বাড়াতে থাকে। গোলকিপার মিলি কয়েকটি নিশ্চিত সুযোগ ঠেকালেও ৬৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমায় স্বাগতিকরা।
এরপর যেন ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের রক্ষণ। ৭৫ মিনিটে আরেকটি পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরায় থাইল্যান্ড।
সমতায় ফেরার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় তাদের হাতে। মাত্র চার মিনিট পর, ৭৯ মিনিটে এলোমেলো রক্ষণের সুযোগ নিয়ে তৃতীয় গোল করে থাইল্যান্ড।
শেষ দিকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ।
প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্বে খেলতে নামা বাংলাদেশের জন্য এটি অবশ্যই কঠিন অভিজ্ঞতা। তবে এই ম্যাচে তারা যে লড়াই করেছে, সেটাও কম কিছু নয়।
এখন সামনে আরও বড় পরীক্ষা। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে চীনের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ—সেখানেই ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ খুঁজবে দল।