টটেনহ্যামের জন্য ইতিহাসের সতর্ক সংকেত

প্রিমিয়ার লিগের চলতি মৌসুমে সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত গল্পগুলোর একটি হয়ে উঠেছে ইংল্যান্ডের অন্যতম বিখ্যাত ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পারের পরিস্থিতি। মৌসুম শেষ হতে এখনও আট ম্যাচ বাকি, অথচ রেলিগেশন জোনেই অবস্থান করছে দলটি। নতুন বছরে এখনও লিগে কোনো জয় না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব, ‘বিগ সিক্স’-এর সদস্য, ইউরোপা লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন, বিশাল স্টেডিয়াম আর সাম্প্রতিক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ উপস্থিতি, সব মিলিয়ে টটেনহ্যামের মতো একটি ক্লাবের অবনমন কল্পনাতীতই মনে হয়। কিন্তু ইতিহাস বলছে, এমন ঘটনা একেবারেই অসম্ভব নয়।
ফুটবলে এমন বহু উদাহরণ আছে যেখানে বড় ক্লাবগুলোও হঠাৎ করেই নিচের স্তরে নেমে গেছে।
আটলেটিকো মাদ্রিদ
স্পেনের বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় ক্লাব আটলেটিকো মাদ্রিদ ২০০০ সালে রেলিগেশনে পড়ে যায়, যদিও তার আগেই তারা লা লিগা ও কোপা দেল রে জিতেছিল। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা এবং আর্থিক সংকট মিলিয়ে পুরো মৌসুমটাই ভেঙে পড়ে।
রিভার প্লেট
আর্জেন্টিনার রিভার প্লেটের পতন ছিল আরও নাটকীয়। ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় বিভাগে নেমে যাওয়ার পর স্টেডিয়ামে সহিংসতা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দলও সেই ধাক্কা এড়াতে পারেনি।
লিডস ইউনাইটেড
ইংল্যান্ডে লিডস ইউনাইটেডের গল্পটাও একই রকম সতর্কবার্তা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনাল খেলা দলটি কয়েক বছরের মধ্যেই আর্থিক সংকট ও দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে প্রিমিয়ার লিগ থেকে ছিটকে পড়ে, এমনকি তৃতীয় বিভাগ পর্যন্ত নেমে যায়।
ম্যানচেস্টার সিটি
আরও বিস্ময়কর উদাহরণ ম্যানচেস্টার সিটি। আজকের ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী ক্লাবটি নব্বইয়ের দশকে প্রিমিয়ার লিগ থেকে নেমে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তৃতীয় বিভাগেও খেলেছে।
শালকে
জার্মানির শালকের পতনও সাম্প্রতিক সময়ের বড় ধাক্কা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিয়মিত খেলা দলটি আর্থিক সংকট ও ধারাবাহিক কোচ পরিবর্তনের কারণে ২০২১ সালে বুন্দেসলিগা থেকে ছিটকে যায়।
এই উদাহরণগুলোই দেখিয়ে দেয়, বড় ক্লাব হওয়া মানেই নিরাপদ থাকা নয়। ভুল সিদ্ধান্ত, খারাপ সময় বা চাপের মুহূর্তে ভেঙে পড়া, সবকিছু মিলেই যে কোনো দলকে নিচে নামিয়ে দিতে পারে।
টটেনহ্যামের সামনে এখন একই রকম বাস্তবতা। কাগজে-কলমে দলটির মান যতই উঁচু হোক, মাঠের ফলাফলই শেষ কথা বলে।
এই অবস্থায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই, তারা কি সময় থাকতে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, নাকি ইতিহাসের সেই তালিকায় যোগ হবে আরেকটি বড় নাম।