৫৪ বছর পুরোনো রেকর্ড ভেঙে বায়ার্নের নতুন ইতিহাস

বুন্দেসলিগায় বায়ার্নের আধিপত্য অনেক আগে থেকেই একতরফা এবার সেটির সঙ্গে যোগ হলো ইতিহাস গড়ার কীর্তি। ৫৪ বছর আগে গড়া গোলের রেকর্ড যা এতদিন কেউ ভাঙতে পারেনি সেটি ভেঙে নতুন মাইলফলক স্থাপন করল কেইন-ওলিসেরা।
সেন্ট পাউলির মাঠে ৫-০ গোলের বড় জয়ে এই রেকর্ড গড়ে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে লিওন গোরেৎজকার ভলিতে আসে মৌসুমের ১০২তম গোল, যা ভেঙে দেয় ১৯৭১-৭২ মৌসুমে গড়া বায়ার্নেরই পুরোনো রেকর্ড।
এর আগে নবম মিনিটে হেডে গোল করে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন জামাল মুসিয়ালা। সেই গোলেই পুরোনো ১০১ গোলের রেকর্ডে সমতা আনে দলটি। এরপর গোরেৎজকার গোল রেকর্ড নতুন করে লেখে।
একবার এগিয়ে যাওয়ার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি বায়ার্নকে। মাইকেল অলিসে, নিকোলাস জ্যাকসন ও রাফায়েল গেরেইরোর গোল মিলিয়ে ব্যবধান দাঁড়ায় ৫-০। ম্যাচ শেষে মৌসুমে বায়ার্নের মোট গোলসংখ্যা পৌঁছে যায় ১০৫ এ, যা আরও বাড়ার সুযোগ রয়েছে।
এই জয়ে শিরোপা দৌড়েও অনেকটাই এগিয়ে গেছে বায়ার্ন। ৩৪ ম্যাচের মৌসুমে এখনও পাঁচটি ম্যাচ বাকি থাকতেই তারা দ্বিতীয় স্থানে থাকা বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের চেয়ে ১২ পয়েন্টে এগিয়ে।
রেকর্ড গড়ার পর সতীর্থ গোরেৎজকাকে নিয়ে মুসিয়ালা পরে হাসতে হাসতে বললেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে রেকর্ডটা সে-ই ভাঙল। কিন্তু লেওনের জন্য এটা দারুণ একটা মুহূর্ত। এই মুহূর্তটা আমাদের দুজনের কাছেই চিরকাল থাকবে।’
কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানিও গোরেৎজকার মানসিকতার প্রশংসা করে বলেন, ‘লিওন সবসময় নিজের ওপর বিশ্বাস রাখে। এমন রেকর্ড তার গোলেই আসাটা খুব স্বাভাবিক।’
এই মৌসুমে বায়ার্নের আক্রমণভাগ ছিল ধারাবাহিকভাবে কার্যকর। হ্যারি কেইন ৩১ গোল করে দলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা। তার পাশাপাশি লুইস দিয়াজ ও মাইকেল অলিসেও নিয়মিত অবদান রেখে চলেছেন।
তবে এত কিছুর পরও দলকে নিয়ে অতিরিক্ত মূল্যায়নে যেতে চান না কোম্পানি। তার ভাষায়, সামনে এখনও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে, আর দল সেই দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগ সামনে রেখে এই ম্যাচে কয়েকজন নিয়মিত খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। তবুও মাঠে নামা দলটি দাপট ধরে রেখেছে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।