ইনফান্তিনোকে সরাতে এক হলো তিন মহাদেশ, ভাবনায় বিকল্প টুর্নামেন্টও
-2d2569.webp)
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। এবার সরাসরি তার পদত্যাগের দাবি তুলেছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (উয়েফা), এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থা (কনকাকাফ)। একই সঙ্গে ফিফার বাইরে বিকল্প প্রতিযোগিতা আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে তিন কনফেডারেশন।
ইনফান্তিনোর ব্যর্থ ফুটবল ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ বা এফএফই পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলে চলমান সংকটের মধ্যেই সোমবার যৌথ খোলা চিঠি দিয়েছে তারা। চিঠিতে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে আস্থা ভাঙার অভিযোগ তুলে এমন নেতৃত্বের আহ্বান জানানো হয়েছে, যারা ফুটবলের সেবা করবে, নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে না।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিন, এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা এবং কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টাগলিয়ানি।
তারা মনে করেন, ফুটবলের নেতৃত্ব কারও ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। একজন নেতা যখন নিজেকে তার ওপর দায়িত্ব দেওয়া সামষ্টিক প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বে নিয়ে যান, তখন তিনি নিজের দায়িত্ব থেকে সরে আসেন।
ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত এফএফই পরিকল্পনায় ব্যক্তিমালিকানাধীন বিনিয়োগকারীদের কাছে ফিফা ও বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বার্থের অংশ তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। অন্যদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়াই পরিকল্পনাটি এগিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তীব্র বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত সেটি বাতিল করতে বাধ্য হন ইনফান্তিনো।
এরপর মরক্কোর রাবাতে ফিফার কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। তবে তিন কনফেডারেশনের দাবি, ফিফা বিষয়টিকে শুধু যোগাযোগের ব্যর্থতা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে। অথচ এটি ছিল নেতৃত্ব ও বিচারবোধের বড় ব্যর্থতা।
এই কেলেঙ্কারির নিরপেক্ষ তদন্তও চেয়েছেন সেফেরিন, শেখ সালমান ও মন্টাগলিয়ানি। তাদের দাবি, ফুটবলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন স্বাধীন কোনো প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে তদন্ত করাতে হবে। ফিফা অবশ্য এর আগে জানিয়েছিল, পরবর্তী কাউন্সিল সভায় এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে।
নেতৃত্বে পরিবর্তন এলে সদস্য দেশগুলো ফিফার আর্থিক সহায়তা হারাতে পারে বলেও বিভিন্ন মহলে প্রচার করা হচ্ছে। যৌথ চিঠিতে সেই আশঙ্কা নাকচ করে বলা হয়েছে, কোনো সদস্য সংস্থাকে তার প্রাপ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য নয়।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের বিষয়ে উয়েফার একাধিক হুমকির মধ্যে বিকল্প প্রতিযোগিতা আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে তিন কনফেডারেশন। বিরোধের সমাধান না হলে আগামী মাসের অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ ইউরোপের দলগুলোকে ছাড়াই অনুষ্ঠিত হতে পারে।
ইনফান্তিনোর বিকল্প প্রার্থী খুঁজতেও তৎপরতা বেড়েছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের মধ্যে কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টাগলিয়ানিকে অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় ফিফা সভাপতি নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহীদের ১৮ নভেম্বরের মধ্যে প্রার্থিতা ঘোষণা করতে হবে।
তবে উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফের নেতৃত্ব ইনফান্তিনোর বিরোধিতা করলেও তাদের সব সদস্য দেশের অবস্থান এক নয়। ইউরোপের বাইরে অল্প কয়েকটি দেশই এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে কথা বলেছে। আগামী নির্বাচনে ইনফান্তিনোকে সমর্থন জানিয়ে পাঠানো চিঠিও প্রত্যাহার করেছে খুব কম সদস্য সংস্থা।
আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন ও দক্ষিণ আমেরিকার কনমেবল এরই মধ্যে ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। অন্যদিকে কয়েকটি প্রভাবশালী ফুটবল সংস্থা এফএফই পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে তার সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ করলেও এখনো কোনো উত্তর পায়নি।
একসময় ইউরোপকেন্দ্রিক মনে হওয়া ইনফান্তিনোবিরোধী আন্দোলনে এখন এশিয়া ও কনকাকাফও যুক্ত হয়েছে। ফলে পদত্যাগ না করলেও বিশ্ব ফুটবলে নিজের কর্তৃত্ব ধরে রাখা তাঁর জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
.png)


-8564ab.webp)