দেড় বছর পর সাফ জয়ের পুরস্কার পেলেন সাবিনারা

প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল ২০২৪ সালে, আর সেই পুরস্কারের টাকা ফুটবলারদের হাতে এল প্রায় দেড় বছর পর। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের জন্য বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে ঘোষিত দেড় কোটি টাকা অবশেষে বুঝিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। বছরের পর বছর সাফল্য এনে দেওয়া মেয়েদের প্রতিশ্রুত সম্মানীর জন্য এমন দীর্ঘ অপেক্ষা দেশের নারী ফুটবলের মাঠের বাইরের এক নির্মম বাস্তবতাই যেন মনে করিয়ে দিল।
২০২৪ সালে কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালায় সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বাংলাদেশ নারী দলকে দেড় কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাফুফে। ওই বছরের ৯ নভেম্বর নবনির্বাচিত কমিটির প্রথম সভাতেই এই ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ফুটবলাররা অর্থ হাতে না পাওয়ায় বাফুফে কর্তাদের বারবার সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল একাধিকবার সময়সীমা জানালেও নানা জটিলতায় তা পেছাতে থাকে। অবশেষে আজ রোববার সকালে নারী ফুটবলারদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সেই টাকা জমা হয়েছে।
২০২৪ সাফজয়ী বাংলাদেশ স্কোয়াডে থাকা ২৩ জন ফুটবলারের প্রত্যেকে পেয়েছেন ৫ লাখ টাকা করে, যেখানে মোট ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। আর বাকি ৩৫ লাখ টাকা কোচিং স্টাফ ও টিম ম্যানেজমেন্টের সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নারী দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন ফুটবলারদের অ্যাকাউন্টে ৫ লাখ টাকা করে জমা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাফুফের পরিকল্পনা ছিল ভারতের গোয়ায় এবারের সাফ ফাইনালের আগেই এই অর্থ ফুটবলারদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার। তবে গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকিং সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব না হওয়ায়, সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস আজ রোববার ফুটবলারদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়। ২০২৪ সালের চ্যাম্পিয়ন দলের বড় একটি অংশ এবারও ভারতের গোয়ায় সাফ খেলতে স্কোয়াডে রয়েছেন। গতকালই তারা ভারতের বিপক্ষে মেগা ফাইনাল খেলেছেন। ফলে মাঠের লড়াই শেষ হওয়ার পরপরই পুরোনো এই পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া দলটির জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির খবর।
জানা গেছে, এই দেড় কোটি টাকা বাফুফে নির্বাহী কমিটির ২১ সদস্যের সম্মিলিত তহবিল থেকে দেওয়ার কথা ছিল। তবে প্রথম সভায় সিদ্ধান্ত হলেও পরে অর্থ সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হয়। কমিটির কয়েকজন সদস্য অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা রাখলেও সবাই সমানভাবে এগিয়ে আসেননি। আর এই অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতার কারণেই প্রতিশ্রুত অর্থ পরিশোধে এতটা বিলম্ব হয়েছে। এক সাফ জয়ের পুরস্কার পেতে পেতে আরেকটি সাফ আসর শেষ হয়ে যাওয়ার এই ঘটনা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে যেমন সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি আজ অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে বাফুফের একটি অস্বস্তিকর অধ্যায়েরও অবসান হলো।
