নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত ক্লাবের হাতে ছেড়ে দিলেন আরবেলোয়া

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায়ের ধাক্কা এখনও কাটেনি। হতাশা, ক্ষোভ আর অজানা ভবিষ্যতের ভার নিয়েই সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ আলভারো আরবেলোয়া।
তার কণ্ঠে ছিল গর্ব, কিন্তু সেই গর্বের ভেতরেও স্পষ্ট হতাশার সুর।
তিনি জানান, খেলোয়াড়দের নিয়ে তিনি গর্বিত। লা লিগার লড়াই এখনও বাকি, শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে চান এই স্প্যানিয়ার্ড আর ক্লাবের সম্মান রক্ষার দায়িত্ব যে তাদের সেটাও স্পষ্টভাবে জানালেন তিনি।
তবে বাস্তবতাও এড়িয়ে যাননি। তার ভাষায়, এই ম্যাচটি মৌসুমের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারত। হারের পর দল ভীষণ হতাশ, ক্ষুব্ধ এবং ব্যথিত।
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও খোলামেলা ছিলেন আরবেলোয়া। জানালেন, ক্লাব যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই মেনে নেবেন। নিজের চেয়ে ক্লাব, খেলোয়াড় আর সমর্থকদের গুরুত্বই তার কাছে বেশি।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোচ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করা কখনও তার লক্ষ্য ছিল না। তার লক্ষ্য ছিল দলকে সাহায্য করা, খেলোয়াড়দের পাশে থাকা এবং ক্লাবকে এগিয়ে নেওয়া।
দায়িত্ব পালন নিয়ে তার অবস্থান পরিষ্কার। প্রতিদিন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন বলেই দাবি তার। দলকে জেতাতে যা যা করা সম্ভব, সবই করেছেন বলেও মনে করেন তিনি।
তবে রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাস খুব একটা সহনশীল নয়। ট্রফিহীন মৌসুম মানেই কোচের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে ওঠা। অতীতেও এমন উদাহরণ রয়েছে, যেখানে বড় শিরোপা না জিততেই দায়িত্ব হারাতে হয়েছে কোচদের।
মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব নেওয়া আরবেলোয়ার ওপর চাপ তাই শুরু থেকেই ছিল প্রবল। ফলাফলও খুব ধারাবাহিক নয়। সব মিলিয়ে, বড় ধরনের অলৌকিক কিছু না হলে মৌসুম শেষ হতে যাচ্ছে বড় কোনো শিরোপা ছাড়াই যা হলে টানা দুই মৌসুম ট্রফিহীন থাকার নজির তৈরি হবে দীর্ঘ সময় পর।
তবুও ড্রেসিংরুমে তার প্রভাব ইতিবাচক বলেই শোনা যাচ্ছে। খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো, দলের ভেতরের পরিবেশও উন্নত হয়েছে বলে মত অনেকের।
সবকিছুর পরও বাস্তবতা কঠিন। ক্লাব সভাপতি কী সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
আরবেলোয়া অবশ্য আপাতত ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন না। তার একটাই লক্ষ্য—শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া। কারণ তার কাছে, রিয়াল মাদ্রিদ সবকিছুর ঊর্ধ্বে।