logo

বার্সার ঝড় সামলে ১৩ বছর পর কোপার ফাইনালে অ্যাথলেটিকো

বার্সার ঝড় সামলে ১৩ বছর পর কোপার ফাইনালে অ্যাথলেটিকো

অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ আবারও প্রমাণ করল ফাইনালে উঠতে শুধু প্রতিভা নয়, দরকার হৃদয় আর ধৈর্য। ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনার শতচেষ্টার পরও ১৩ বছর পর কোপা দেল রে’র ফাইনালে জায়গা করে নিল সিমিওনের দল। ৩-০ ব্যবধানে হারার পরও দুই লেগ মিলিয়ে ফাইনালে অ্যাথলেটিকো।

প্রথম লেগের বড় ব্যবধানই শেষ পর্যন্ত ঢাল হয়ে দাঁড়াল অ্যাথলেটিকোর জন্য। বার্সা জিতেছে ৩-০ ব্যবধানে, কিন্তু ফাইনালের টিকিট গেছে মাদ্রিদের হাতে। ম্যাচ শেষে ক্লান্ত শরীর মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও সিমিওনের শিষ্যদের মুখে ছিল একটাই স্বস্তি—তারা বেঁচে গেছে, এবং তারা ফাইনালে।

ম্যাচের আগেই বার্সা কোচ হ্যান্সি ফ্লিক বলেছিলেন, ‘অসম্ভবকে সম্ভব করব।’ 

পরিকল্পনাও ছিল স্পষ্ট—দুই অর্ধে দুই গোল, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। বার্সা যে চার গোল করতে পারে, তার প্রমাণ এ মৌসুমেই বহুবার দিয়েছে তারা। কিন্তু সমস্যা একটাই—গোল না খাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।

ম্যাচের শুরু থেকেই ঝাঁপিয়ে পড়ে কাতালানরা। দেড় মিনিটেই সতর্কবার্তা। কিন্তু ১১ মিনিটে বড় ধাক্কা—ডিফেন্সের অতন্দ্র প্রহরী জুল কুন্দে চোটে মাঠ ছাড়েন। তার বদলি নামা আলেহান্দ্রো বালদেকে ম্যাচ শেষের দিকে ইনজুরিতে বিদায় নিতে হয়। রক্ষণে এই জোড়া ধাক্কা সত্ত্বেও আক্রমণের ধার কমেনি।

প্রথমার্ধের ২৯ মিনিটে ম্যাচের গতি পাল্টে দেয় এক কর্নার। লামিন ইয়ামালের নিখুঁত ড্রিবল থেকে বল পেয়ে মার্ক বার্নাল গোল করেন। স্টেডিয়ামে আগুন জ্বলে ওঠে। বিরতির ঠিক আগে পেনাল্টি থেকে রাফিনহার গোল—স্কোরলাইন ২-০।

দ্বিতীয়ার্ধে বার্সা আরও মরিয়া। অ্যাথলেটিকো তখন কেবল টিকে থাকার লড়াইয়ে। ৭০ মিনিটে আবার বার্নাল—৩-০। ভিএআর পর্যালোচনার পর গোল বৈধ ঘোষণা। পুরো ক্যাম্প ন্যু তখন এক গোলের অপেক্ষায়, অতিরিক্ত সময়ের স্বপ্নে বিভোর।

কিন্তু সেই চতুর্থ গোল আর আসেনি। শেষ ১৫ মিনিট ছিল নিঃশ্বাস বন্ধ করা নাটক। পেদ্রি খুঁড়িয়ে খেলছেন, সবাই ক্লান্ত, তবু আক্রমণ থামেনি। অন্যদিকে সিমিওনের দল বল ধরে রাখতে হিমশিম খেলেও রক্ষণে অটল। রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই দুই দলের খেলোয়াড়রা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন—শারীরিক ও মানসিক লড়াইয়ের শেষ অধ্যায়।

ম্যাচটি ডিয়েগো সিমিওনের  জন্য এ এক বিশেষ রাত। ১৩ বছর পর কোপা দেল রে ফাইনাল আর তার দল অ্যাথলেটিকো আবার শিরোপার দ্বারপ্রান্তে। 

ফাইনাল হবে লা কার্তুজাতে। প্রতিপক্ষ যেই হোক, এই লড়াকু মানসিকতা নিয়ে অ্যাথলেটিকোকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

বার্সা হয়তো গর্ব করতে পারে তাদের লড়াই নিয়ে—চোট, চাপ আর অসম্ভব লক্ষ্য নিয়েও শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছে। কিন্তু ফুটবল কখনও কখনও কেবল সাহসের নয়, হিসেবের খেলাও।