নিকো পাজের জোড়া গোলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে উড়িয়ে দিল কোমো

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দুঃসময় কাটছেই না। এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে ইতালির কোমোর কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে ইংলিশ জায়ান্টরা। আর্জেন্টাইন তরুণ নিকো পাজের জোড়া গোলে ইউনাইটেডকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছে সেস্ক ফ্যাব্রেগাসের দল। শেষ মুহূর্তে জশুয়া জির্কজি একটি গোল শোধ দিলেও তা কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। এমন পরাজয়ে কোচ মাইকেল ক্যারিকের ওপর চাপ আরও বাড়ল।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ইতালির জিউসেপ্পে সিনিগালিয়া স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় কোমো। মাত্র দ্বিতীয় মিনিটে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন পাজ। বক্সের সামনে হ্যারি ম্যাগুয়ারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে জাল খুঁজে নেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই তরুণ।
শুরুর ধাক্কা সামলে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও আক্রমণে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি ইউনাইটেড। বরং প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করে কোমো। ৩৯ মিনিটে ভালো সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেননি আনাস্তাসিওস দুভিকাস। অন্যদিকে বিরতির আগে মাতেউস কুনিয়ার একটি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফলে এক গোলে পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে সফরকারীরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দুই পরিবর্তন আনেন ইউনাইটেড কোচ ক্যারিক। কুনিয়া ও আন্দ্রে সান্তোসের জায়গায় মাঠে নামেন আমাদ দিয়ালো ও কার্লোস বালেবা। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
৪৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দুভিকাস। পাজের বাড়ানো বল ধরে ইউনাইটেডের দুই সেন্টারব্যাকের মাঝের ফাঁকা জায়গা দিয়ে এগিয়ে গিয়ে গোলরক্ষক সেন্নে লামেন্সকে পরাস্ত করেন গ্রিক এই ফরোয়ার্ড।
এরপর ৫৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ইউনাইটেডের দুর্দশা আরও বাড়ান পাজ। মাঝমাঠে বালেবার ভুল পাস থেকে বল পেয়ে দ্রুত বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। তাতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-০।
৬৭ মিনিটে অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজকে তুলে নিয়ে জির্কজিকে মাঠে নামান ক্যারিক। তবে আক্রমণে পরিবর্তন আসার আগেই চতুর্থ গোল হজম করে ইউনাইটেড। ৭৬ মিনিটে কাইকি ব্রুনোর নিখুঁত ক্রসে ছয় গজ বক্সের ভেতর থেকে হেডে গোল করেন ডিফেন্ডা রামোন।
চার গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে একটি গোল শোধ দেয় ইউনাইটেড। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আমাদ দিয়ালোর বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন জির্কজি। তবে ততক্ষণে বড় হার নিশ্চিত হয়ে গেছে ইংলিশ ক্লাবটির।
দীর্ঘদিন পর এই ম্যাচে ইউনাইটেডের শুরুর একাদশে ফিরেছিলেন ডাচ ডিফেন্ডার ম্যাথাইস ডি লিট। তবে তাঁর প্রত্যাবর্তনও দলের রক্ষণভাগের দুর্বলতা আড়াল করতে পারেনি।
চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষেক মৌসুমেই স্মরণীয় আরেকটি জয় পেল কোমো। প্রথম ম্যাচে আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলে হারানোর পর ফেইনুর্দের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছিল ফ্যাব্রেগাসের দল। এবার ইউনাইটেডকে হারিয়ে তিন ম্যাচে ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করল তারা।
অন্যদিকে আজারবাইজানের সাবাহকে ৪-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ শুরু করা ইউনাইটেড টানা দ্বিতীয় হারের মুখ দেখল। আগের ম্যাচে আতলেটিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল ইংলিশ ক্লাবটি। তিন ম্যাচে তাদের সংগ্রহ মাত্র ৩ পয়েন্ট।
অন্য ম্যাচে লিঁলকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে গালাতাসারায়ে।
