Advertisement

বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসির কাছে যে সাহায্য চেয়েছিলেন রেফারি

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসির কাছে যে সাহায্য চেয়েছিলেন রেফারি
ফাইনালে মেসির কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন রেফারি। ছবি: গেটি ইমেজ

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় ছিলেন রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ। একটি হলুদ কার্ড দেখা এই মিডফিল্ডার যেন আর কোনো ঝামেলায় না জড়ান, সেটি নিশ্চিত করতে লিওনেল মেসির সাহায্য চেয়েছিলেন তিনি। নতুন প্রকাশিত রেফারি ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়েছে সেই কথোপকথন।

Advertisement

গত ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। ম্যাচ পরিচালনাকারী স্লোভেনীয় রেফারি ভিনচিচের মাথায় বসানো ক্যামেরায় ধারণ করা প্রায় পাঁচ মিনিটের ভিডিও প্রকাশ করেছে ফিফা।

ভিডিওটির শুরু খেলোয়াড়দের মাঠে প্রবেশের আগের মুহূর্ত দিয়ে। টানেলে স্পেনের মার্ক কুকুরেয়া ও রদ্রিসহ কয়েকজন ফুটবলারকে আলিঙ্গন করতে দেখা যায় মেসিকে। এরপর ম্যাচ কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাত মেলান আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

ম্যাচ শুরুর পর অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে একটি ফাউলের জন্য শেষবারের মতো সতর্ক করেন ভিনচিচ। পাল্টা আক্রমণ থামাতে লামিনে ইয়ামালকে ফেলে দেওয়ায় হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ।

একটি ঘটনায় স্পেনের ফুটবলার মেসিকে টেনে ধরলে রেফারির দিকে ফিরে তাকান আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। তখন ভিনচিচ তাকে বলেন, ‘লিওনেল, আমি দেখেছি।’ এরপর আর কোনো প্রতিবাদ না করে সরে যান মেসি।

তবে রেফারির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথনটি হয় পারেদেসকে নিয়ে। বিরতির পর মাঠে নামা আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার মাত্র ছয় মিনিটের মধ্যেই হলুদ কার্ড দেখেন। এরপরও কয়েকটি ঘটনায় প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করেন তিনি।

তখন মেসির কাছে গিয়ে ভিনচিচ বলেন, ‘মেসি, পারেদেসকে সামলাও। ওর হলুদ কার্ড আছে। দয়া করে ওকে নিয়ন্ত্রণ করো।’

শেষ পর্যন্ত ম্যাচ চলাকালে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখা থেকে বেঁচে যান পারেদেস। তবে শেষ বাঁশির পর আর নিজেকে সামলাতে পারেননি তিনি। স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা ধরার পর গাভিকে মাটিতে ফেলে দেন এই মিডফিল্ডার।

ওই সংঘর্ষের দৃশ্য রেফারি ক্যামেরার প্রকাশিত ভিডিওতে রাখা হয়নি। গত ২৯ জুলাই পারেদেসের বিরুদ্ধে তিনটি শারীরিক আক্রমণের অভিযোগে তদন্ত শুরুর কথা জানায় ফিফা।

ভিডিওতে ভিনচিচের চোখ দিয়ে ফেরান তোরেসের জয়সূচক গোলটিও দেখা গেছে। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে পেনাল্টি এলাকার কাছ থেকে বল জালে পাঠান স্পেনের এই ফরোয়ার্ড। গোলের সময় পেনাল্টি এলাকার ঠিক বাইরে ছিলেন ভিনচিচ।

গোলের পর ক্যামেরায় দুই দলের বিপরীত অনুভূতি ধরা পড়ে। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা একে একে মাঠে বসে পড়েন। অন্যদিকে কর্নার পতাকার দিকে ছুটে গিয়ে উদ্‌যাপনে মেতে ওঠেন স্পেনের ফুটবলাররা।

ম্যাচ শেষে দানি ওলমোর সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায় ভিনচিচকে। আর্জেন্টিনাকে সামলানো কতটা কঠিন ছিল, সেটি জানালে ওলমো বলেন, ‘আপনি দারুণ দায়িত্ব পালন করেছেন।’

ওলমোকে ভিনচিচ জানান, এটিই ছিল রেফারি হিসেবে তার শেষ ম্যাচ। তখন স্প্যানিশ ফুটবলার তাকে অসাধারণ কর্মজীবনের জন্য অভিনন্দন জানান। ফাইনালের আট দিন পর ২৭ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেন ভিনচিচ।

পদক গ্রহণের সময় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়ানো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও দেখা হয় তার। ভিনচিচ এগিয়ে গেলে দুবার ‘দারুণ কাজ’ বলে প্রশংসা করেন ট্রাম্প এবং তার গলায় পদক পরিয়ে দেন।

এরপর মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে হাত মেলান ভিনচিচ।

২০২৫ ক্লাব বিশ্বকাপে পরীক্ষামূলক ব্যবহারের পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও রেফারি ক্যামেরা ব্যবহার করে ফিফা। রেফারির মাথায় বসানো হালকা ক্যামেরাটি একই সঙ্গে ভিডিও ও শব্দ ধারণ করে। দ্রুত চলার সময়ও স্থির দৃশ্য পাওয়ার জন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লেনোভোর তৈরি বিশেষ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে।

বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসির কাছে যে সাহায্য চেয়েছিলেন রেফারি