logo

ক্লাব ফুটবলে হঠাৎ তিন সপ্তাহের বিরতি কেন

ক্লাব ফুটবলে হঠাৎ তিন সপ্তাহের বিরতি কেন
বড় ক্লাবগুলোর ম্যাচে প্রায় ২০ দিনের বিরতি। ছবি: সিবিসি

রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, ম্যানচেস্টার সিটি কিংবা লিভারপুলের খেলা দেখতে এবার বেশ লম্বা অপেক্ষায় থাকতে হবে সমর্থকদের। ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে শুরু হয়েছে প্রায় তিন সপ্তাহের বিরতি। তবে চোট কিংবা সূচির জটিলতার কারণে নয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলের নতুন ক্যালেন্ডারের কারণেই এত দীর্ঘ বিরতি।

ফিফার এবারের আন্তর্জাতিক ম্যাচ উইন্ডো শুরু হয়েছে ২১ সেপ্টেম্বর। চলবে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। অর্থাৎ জাতীয় দলের জন্য নির্ধারিত সময় মোট ১৬ দিন।

আগের বছরগুলোতে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে আলাদা দুটি আন্তর্জাতিক বিরতি থাকত। প্রতিটি উইন্ডোতে সাধারণত দুটি করে ম্যাচ খেলত জাতীয় দলগুলো। কিন্তু ২০২৬ সাল থেকে পদ্ধতিটা বদলে দিয়েছে ফিফা।

সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের দুটি বিরতি একসঙ্গে করে এবার একটি দীর্ঘ উইন্ডো রাখা হয়েছে। এই সময়ে একটি জাতীয় দল সর্বোচ্চ চারটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পারবে।

ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, এতে ক্লাব মৌসুমে বারবার বাধা পড়বে কম। একই সঙ্গে ইউরোপে খেলা আফ্রিকা, এশিয়া কিংবা দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলারদের বারবার দীর্ঘ ভ্রমণের প্রয়োজনও কমবে।

তবে এর ফলে এবার ক্লাব ফুটবলে তৈরি হয়েছে অস্বাভাবিক দীর্ঘ বিরতি। প্রিমিয়ার লিগে ২০ সেপ্টেম্বরের ম্যাচগুলোর পর পরবর্তী রাউন্ড শুরু হবে ১০ অক্টোবর। লা লিগাও ফিরবে ১১ অক্টোবর। বুন্দেসলিগাসহ ইউরোপের অন্য বড় লিগগুলোর অবস্থাও প্রায় একই।

ক্লাব ফুটবল থামলেও অবশ্য ফুটবলের ব্যস্ততা কমছে না। ২৪ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে উয়েফা নেশন্স লিগের নতুন আসর। এই দীর্ঘ উইন্ডোয় ইউরোপের অনেক দেশ চারটি করে ম্যাচ খেলবে।

দক্ষিণ আমেরিকার বড় দলগুলোও ব্যস্ত থাকবে। কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল ২৫ ও ২৯ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলার পর ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারতের মুখোমুখি হবে।

আর্জেন্টিনাও খেলবে তিনটি প্রীতি ম্যাচ। লিওনেল স্কালোনির দল ৩০ সেপ্টেম্বর বলিভিয়া, ৩ অক্টোবর বুরকিনা ফাসো এবং ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে খেলবে।

বাংলাদেশের জন্যও এবারের আন্তর্জাতিক বিরতি গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমবারের ফিফা আসিয়ান কাপে খেলবে বাংলাদেশ। ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে প্রতিযোগিতাটি।

জাতীয় দলের ব্যস্ততায় তাই ফুটবল থামছে না। তবে ক্লাব ফুটবলের দর্শকদের জন্য অপেক্ষাটা এবার একটু দীর্ঘই। ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোকে আবার মাঠে দেখতে অপেক্ষা করতে হবে অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত।