logo
Advertisement

ভিনিসিয়ুসকে ঘিরে বার্নাব্যুতে এত অসন্তোষ কেন

দ্য অ্যাথলেটিক
দ্য অ্যাথলেটিক
ভিনিসিয়ুসকে ঘিরে বার্নাব্যুতে এত অসন্তোষ কেন
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ছবি: গেটি ইমেজ

একসময় সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সবচেয়ে প্রিয় মুখগুলোর একজন ছিলেন রিয়ালের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এখন সেই একই মাঠে সুযোগ নষ্ট করলে কিংবা ছন্দ হারালে তাকে শুনতে হচ্ছে শিস ও দুয়ো। গত দুই মৌসুমে তৈরি হওয়া অসন্তোষ নতুন মৌসুমেও কাটেনি। ইন্টার মিলান, মালাগা কিংবা রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতেও ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে লক্ষ্য করে শিস দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের একাংশের সমর্থক।

ভিনিসিয়ুসের পাশে দাঁড়িয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন তার কোচ হোসে মরিনহোও। রিয়াল কোচ পর্তুগালের একটি প্রবাদ টেনে বলেছেন, ‘ফল ধরে এমন গাছেই মানুষ পাথর ছোড়ে।’

মরিনহোর যুক্তি পরিষ্কার। রিয়ালের হয়ে ৩৮২ ম্যাচে ১২৯ গোল ও ১০৩ গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন ভিনিসিয়ুস। ২০২২ ও ২০২৪ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালেও গোল করেছেন তিনি। তাই তার কাছে প্রত্যাশাটাও অন্যদের চেয়ে বেশি।

কিন্তু বার্নাব্যুতে সাম্প্রতিক অসন্তোষের কারণ শুধু গোল কমে যাওয়া নয়।

২০২৩-২৪ মৌসুমে ২৪ গোল ও ১১ গোলে সহায়তা করে নিজের সেরা সময়গুলোর একটি কাটিয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। এরপর তার পারফরম্যান্সে ছন্দপতন আসে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত লা লিগায় ১৬ ম্যাচে মাত্র তিন গোল করেন। চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বের ছয় ম্যাচেও তার গোল ছিল একটি।

এর মধ্যেই নতুন চুক্তি নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েন চলে। আর্সেনালের আগ্রহে ভিনিসিয়ুসও সাড়া দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য রিয়ালেই থেকে গেছেন এবং এই গ্রীষ্মে ২০৩২ পর্যন্ত নতুন চুক্তি করেছেন। কিন্তু তাকে ক্লাবের সর্বোচ্চ বেতনভোগীদের একজন করার পর পারফরম্যান্সের দাবিও আরও বেড়েছে।

এল ক্লাসিকোর সেই ঘটনা।
এল ক্লাসিকোর সেই ঘটনা।

সমর্থকদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ানোর বড় একটি ঘটনা ছিল গত মৌসুমের এল ক্লাসিকো। রিয়ালের তৎকালীন কোচ জাবি আলোনসো তাকে বদলি করলে ক্ষুব্ধ হয়ে মাঠ ছাড়েন ভিনিসিয়ুস। সে সময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি দল ছেড়ে যাচ্ছি। চলে যাওয়াই ভালো।’

আলোনসো পরে বরখাস্ত হলে বার্নাব্যুতে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়। লেভান্তের বিপক্ষে ম্যাচে সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ, জুড বেলিংহাম ও ফেদেরিকো ভালভার্দেও শিস শুনেছিলেন। তবে সবচেয়ে বেশি বিরূপ প্রতিক্রিয়া ছিল ভিনিসিয়ুসকে ঘিরে। সমর্থকদের একাংশের ধারণা ছিল, আলোনসোর সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব দলটির প্রকল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

মাঠে ভিনিসিয়ুসের আচরণ নিয়েও আপত্তি আছে কিছু সমর্থকের। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় ও দর্শকদের সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা কিংবা উসকানিমূলক আচরণ রিয়ালের ঐতিহ্যগত ‘সেনিওরিও’ বা সংযত ভাবমূর্তির সঙ্গে যায় না বলে মনে করেন তারা।

তবে স্পেনের বিভিন্ন মাঠে ভিনিসিয়ুসের বিরুদ্ধে হওয়া বর্ণবাদী নিপীড়ন সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। বার্নাব্যুতে বর্তমান অসন্তোষ মূলত তার পারফরম্যান্স, আচরণ এবং তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া প্রত্যাশার ব্যবধান থেকে।

নতুন কোচ মরিনহোর অধীনে অবশ্য তার কাজের হার বেড়েছে। ইন্টারের বিপক্ষে গোল না পেলেও ভিনিসিয়ুসের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছিলেন মরিনহো। তারপরও নতুন মৌসুমের প্রথম সাত ম্যাচে তার গোল মাত্র একটি, সঙ্গে তিনটি গোলে অ্যাসিস্ট।

এলচের বিপক্ষে সুযোগ নষ্ট করার পর নিজের দায়ও স্বীকার করেছেন ভিনিসিয়ুস। ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘গোল আসবে। এত সুযোগ আমি নষ্ট করতে পারি না।’

বার্নাব্যুর সঙ্গে ভিনিসিয়ুসের সম্পর্ক তাই এখন ভালোবাসা ও অসন্তোষের মাঝামাঝি। তার অতীত অবদান নিয়ে সংশয় নেই, কিন্তু বর্তমান রিয়ালে সেই অতীতই প্রত্যাশার মানদণ্ডও বাড়িয়ে দিয়েছে। আবার নিয়মিত গোল ও সহায়তা ফিরলে এই শিস কত দ্রুত করতালিতে বদলায়, সেটাই এখন দেখার।