logo
Advertisement

ইতিহাস গড়ার রাতে বার্সার সাত গোলের উৎসব

ইতিহাস গড়ার রাতে বার্সার সাত গোলের উৎসব
ম্যাচে বার্সার হয়ে হ্যাটট্রিক করেন রাফিনিয়া। ছবি: গেটি ইমেজ

লা লিগায় রেসিং সান্তান্দারকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করল বার্সেলোনা। দলের অধিনায়ক রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিকে ক্যাম্প ন্যুতে নবাগত দলটিকে ৭-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল। সেই সঙ্গে গড়েছে ক্লাব ইতিহাসের নতুন রেকর্ড, প্রথমবার মৌসুমের শুরুতে টানা সাত প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ জিতল কাতালানরা।

এর আগে ১৯২৯-৩০, ১৯৬০-৬১ ও ২০১৮-১৯ মৌসুমে প্রথম ছয় ম্যাচ জিতেছিল বার্সা। কিন্তু সপ্তম ম্যাচে এসে প্রত্যেকবারই থেমেছিল জয়যাত্রা। এবার রেসিংকে হারিয়ে সেই সীমা পেরিয়ে গেল ফ্লিকের দল। লা লিগায় ছয় ম্যাচের ছয়টিই জিতে তাদের পয়েন্ট ১৮।

বৃষ্টিভেজা ক্যাম্প ন্যুতে গোল উৎসবের শুরু অষ্টম মিনিটে। লামিনে ইয়ামালের পাস থেকে ডি-বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠান জোয়াও কানসেলো। ২৫ মিনিটে রাফিনিয়াকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় বার্সা। স্পটকিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক।

তবে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই মাগেতে গেয়ের গোলে ব্যবধান কমায় রেসিং। সেই স্বস্তিও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩৬ মিনিটে আসিয়ের ভিয়ালিব্রের আত্মঘাতী গোলে ৩-১ করে বার্সা। ৪২ মিনিটে দানি ওলমোর পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রাফিনিয়া।

প্রথমার্ধেই আরও বড় ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল বার্সার। করিম আদেয়েমি, ওলমো ও আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন সুযোগ নষ্ট করেন। এমনকি বিরতির ঠিক আগে পেনাল্টিও কাজে লাগাতে পারেননি ইয়ামাল। ফলে ৪-১ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় স্বাগতিকেরা।

বিরতিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। চোট পাওয়া গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়ার জায়গায় নামেন ভয়চেখ শেজনি। পরে তাঁর ভুলেই ম্যাচে দ্বিতীয় গোলটি পায় রেসিং। ৬৫ মিনিটে শেজনির কাছ থেকে বল কেড়ে ফাঁকা জালে পাঠান বদলি ইয়াসির জাবিরি।

তবে দুই মিনিট পরই আবার তিন গোলের ব্যবধান ফিরিয়ে আনে বার্সা। আদেয়েমিকে ফাউল করায় পাওয়া আরেকটি পেনাল্টি থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন রাফিনিয়া। এরপরই দর্শকদের করতালির মধ্যে তাকে তুলে নিয়ে গাব্রিয়েল জেসুসকে নামান ফ্লিক।

মাঠে নেমে গোল পেতে জেসুসেরও বেশি সময় লাগেনি। ৭৯ মিনিটে ইয়ামালের পাস থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে স্কোর ৬-২ করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

গোল উৎসবের শেষটা করেন ইয়ামাল নিজেই। ৮৯ মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে দুর্দান্ত দৌড়ে রেসিংয়ের বক্সে ঢুকে ইয়ামালকে বল বাড়ান আদেয়েমি। কাছ থেকে গোল করে ৭-২ করেন স্প্যানিশ তরুণ।

এই ম্যাচের আগে মৌসুমের প্রথম ছয় প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ২৬ গোল করেছিল বার্সা, যা এই শতাব্দীতে তাদের সেরা গোলের শুরু। রেসিংয়ের জালে সাত গোল যোগ হওয়ায় সাত ম্যাচে গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৩৩।