‘ভালোবাসি, ভালোবেসেছি, ভালোবাসব’, বিদায়ী বার্তায় মেসি

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে দীর্ঘ পথচলার ইতি টেনে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন লিওনেল মেসি। নিজের সিদ্ধান্ত কতটা কঠিন ছিল, আকাশি-সাদা জার্সির প্রতি ভালোবাসা, সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং নতুন প্রজন্মের জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়ার কথাও উঠে এসেছে তার বিদায়ী বার্তায়।
বিশ্বকাপ ফাইনালের পর অনেক ভেবেই সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মেসি। তবে বার্তার শেষে তিনি জানিয়েছেন, কথাগুলো লিখেছিলেন ২১ জুলাই, ফাইনালের দুই দিন পর। বাবার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন আরও নিশ্চিত বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। এশিয়া পোস্টের পাঠকের জন্য পুরো বার্তাটি বাংলায় দেওয়া হলো:
‘ফাইনালের পর এতটা সময় কেটে গেছে। অনেক ভেবেচিন্তে আমি সবাইকে জানাতে চাই, আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি।
সিদ্ধান্তটি নেওয়া খুব কষ্টের ছিল, এখনো আমার হৃদয়ে ব্যথা দেয়। তবে আমি বুঝতে পারছি, এটাই সঠিক সময়। আমি শপথ করে বলতে পারি, সব সময় নিজের সবটুকু দিয়েছি। শুধু শেষ কয়েক বছর নয়, যখন আমরা সবকিছু জিতেছি, তার আগেও। এই জার্সির জন্য সব সময় লড়েছি, নিজেকে পুরোপুরি উজাড় করে দিয়েছি। আপনাদের আনন্দ দিতে, ফুটবলের মাধ্যমে আর্জেন্টাইন হিসেবে আপনাদের গর্বিত করতে সবকিছু করেছি।
সময় খুব বেশি বাকি নেই। একে একে জীবনের অধ্যায়গুলো শেষ হয়ে আসছে, আর এটিও এমন একটি অধ্যায়, যেটি শেষ করতে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। জাতীয় দলে থাকতে আমি ভালোবাসি, ভালোবেসেছি এবং সব সময় ভালোবাসব। আমি নিজেকে পুরোপুরি নিঃশেষ করে দিয়েছি। আমার আর কিছু দেওয়ার নেই। আর পেছনে দারুণ কিছু তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে, যারা এই জায়গা পাওয়ার যোগ্য।
এই ২০ বছরের এত ভালোবাসার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। মাঠের ভেতর থেকে আপনাদের আওয়াজ শোনা খুব মিস করব। এখন থেকে আমি আপনাদেরই একজন হয়ে যাব। বাইরে থেকে সব সময় আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করব, পাশে থাকব। ভালো সময়ে তো অবশ্যই, আর খারাপ সময়ে আরও বেশি।
আমার পরিবারকে ধন্যবাদ, সব সময় পাশে থাকার জন্য এবং এত সুন্দর, কিন্তু একই সঙ্গে কঠিন এই যাত্রায় আমার সঙ্গী হওয়ার জন্য। যেসব কোচ, সতীর্থ ও কর্মকর্তার সঙ্গে এই পথ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ হয়েছে, তাদের প্রত্যেককেও ধন্যবাদ। সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছি অসংখ্য স্মৃতি এবং অবিস্মরণীয় সব মুহূর্ত।
আমি শান্তি ও গর্ব নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। কারণ সতীর্থদের সঙ্গে মিলে আপনাদের এমন কিছু মুহূর্ত উপহার দিতে পেরেছি, যেগুলো আমরা স্বপ্নে দেখেছিলাম। আপনাদের সঙ্গে মিলে এসব অনুভব করতে পারাটা ছিল অবিশ্বাস্য এক অভিজ্ঞতা। আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি।
আমাকে আর্জেন্টাইন হিসেবে জন্ম দেওয়ার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।
ভামোস আর্জেন্টিনা!
এই কথাগুলো আমি ২১ জুলাই, ফাইনালের দুই দিন পর লিখেছিলাম। আমার বাবার সঙ্গে যা ঘটেছে, তার পর নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি আগের চেয়েও বেশি নিশ্চিত।



