ক্রোয়েশিয়ার কাছে বিশ্বকাপে হারের স্মৃতি এখনও তাড়া করে নেইমারকে

২০২২ বিশ্বকাপের সেই রাতটা এখনও তাড়া করে ফেরে নেইমারকে। ক্রোয়েশিয়ার কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে হারের স্মৃতি মনে করলে তার কাছে সেটি যেন নিজের জানাজায় উপস্থিত থাকার মতোই এক অনুভূতি।
সম্প্রতি সতীর্থদের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় ব্রাজিলিয়ান তারকা বলেন, ম্যাচের পর হোটেলে ফেরার সময় তার মনে হয়েছিল সবকিছু যেন শেষ হয়ে গেছে। চারপাশে নীরবতা, সবার মুখ গম্ভীর, যেন কেউ কিছু বলতে পারছে না।
অথচ ম্যাচের গল্পটা অন্যরকম হতে পারত। অতিরিক্ত সময়ে নেইমারের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৪-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
নেইমার বলেন, তার ক্যারিয়ারে সাধারণত তিনি পঞ্চম শটটি নেন। কিন্তু সেদিন সেই সুযোগই আসেনি।
‘পঞ্চম পেনাল্টিটা সবচেয়ে কঠিন। আমি সবসময় সেটাই নিই। কিন্তু অনেক সময় সেই সুযোগটাই আসে না,’ বলেন তিনি।
এই হারটা তার জন্য ছিল আরও কষ্টের, কারণ এটিই ছিল ব্রাজিলের হয়ে বড় কোনো শিরোপা জয়ের সবচেয়ে বড় সুযোগগুলোর একটি। নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলেও খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে তাকে।
ম্যাচ শেষে হোটেলে ফিরে যে মানসিক অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছেন, সেটিই সবচেয়ে বেশি নাড়া দেয় তাকে। নেইমারের ভাষায়, ‘মনে হয়েছিল আমি মারা যাচ্ছি। ছোট একটা ঘরে বসে আছি, একে একে সবাই আসছে। পরিবারের মানুষজনও এসেছে। কারও চোখে পানি, কেউ কথা বলছে না। মনে হচ্ছিল আমি যেন কফিনের ভেতরে আছি, আর সবাই বলছে, তুমি এখনও বেঁচে আছো?’
৩৪ বছর বয়সি নেইমার এখনও ব্রাজিলের হয়ে পরম আরাধ্য বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে পারেননি। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেও ২০২৩ সালের পর থেকে জাতীয় দলের বাইরে আছেন তিনি, চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে।
তবে সামনে বিশ্বকাপকে লক্ষ্য করেই আবারও দলে ফেরার আশা করছেন এই ফরোয়ার্ড। ব্রাজিল শেষবার বিশ্বকাপ জিতেছিল ২০০২ সালে। এরপর আর শিরোপা ছোঁয়া হয়নি, যা নেইমারের মতো একজন তারকার ক্যারিয়ারে অপূর্ণতার বড় কারণ হয়ে আছে।