logo
Advertisement

পারেদেসকে বাঁচাতে আর্জেন্টিনার ‘সুয়ারেজ-যুক্তি’

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
পারেদেসকে বাঁচাতে আর্জেন্টিনার ‘সুয়ারেজ-যুক্তি’
ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

প্রতিপক্ষকে কামড়ে ৯ ম্যাচ, আর বিশ্বকাপ ফাইনালের পর হাতাহাতিতে ১০ ম্যাচ। নিষেধাজ্ঞার এই অঙ্কই এখন লিয়ান্দ্রো পারেদেসের শাস্তি কমাতে আর্জেন্টিনার বড় যুক্তি। ফিফার রায়কে ‘স্পষ্টতই অতিরিক্ত’ দাবি করে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

Advertisement

গত ১৯ জুলাইয়ের বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের সদস্য। স্পেনের খেলোয়াড়েরা মাঠে উদ্‌যাপন করতে ঢুকে পড়ার পর গাভিকে মাটিতে ঠেলে দেন পারেদেস। ফিফার তদন্তে তার বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক আচরণের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছিল।

শুক্রবার পারেদেসকে ১০ আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ৯০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করেছে ফিফা। একই ঘটনায় নাহুয়েল মলিনা সাত ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছেন। তাকেও গুনতে হবে ৯০ হাজার ডলার জরিমানা।

এএফএর আইন বিভাগের প্রধান আন্দ্রেস পাটোন উরিচ জানিয়েছেন, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কারণ চেয়ে আবেদন করবে আর্জেন্টিনা। এরপর পারেদেস ও মলিনার নিষেধাজ্ঞা কমাতে আপিল করা হবে।

উরিচ বলেন, ‘আমরা জানতাম শাস্তি আসবে, তবে এতটা আশা করিনি। পারেদেস, মলিনা ও আয়ালার শাস্তি তাদের কাজের তুলনায় অতিরিক্ত। কারণ জানার পর আমরা আপিল করব।’

পারেদেসের শাস্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ২০১৪ বিশ্বকাপে লুইস সুয়ারেজের কুখ্যাত কামড়ের ঘটনাকে সামনে এনেছেন তিনি। ইতালির জর্জিও কিয়েল্লিনিকে কামড় দেওয়ায় উরুগুয়ের ফরোয়ার্ডকে ৯ আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা।

উরিচের প্রশ্ন, প্রতিপক্ষকে কামড় দেওয়ার শাস্তি যদি ৯ ম্যাচ হয়, তাহলে ফাইনাল-পরবর্তী হাতাহাতির জন্য পারেদেস কেন ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ হবেন?

তবে দুই শাস্তির তুলনায় একটি বড় পার্থক্যও রয়েছে। ৯ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সুয়ারেজকে চার মাস সব ধরনের ফুটবল কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। তাকে এক লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানাও করা হয়। ফলে শুধু ম্যাচের সংখ্যা দিয়ে দুই শাস্তির সামগ্রিক কঠোরতা বিচার করা যাবে না।

আরেকটি নজির হিসেবে ক্রোয়েশিয়ার যোসিপ সিমুনিচের কথা উল্লেখ করেছে আর্জেন্টিনা। ২০১৩ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচের পর নাৎসিপন্থী স্লোগান দেওয়ায় তাকে ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা। এএফএর যুক্তি, আরও গুরুতর কিছু ঘটনার শাস্তিও পারেদেসের সমান কিংবা কম ছিল।

পারেদেস ও মলিনার বাইরে আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবের্তো আয়ালা তিন ম্যাচ এবং থিয়াগো আলমাদা এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন। স্পেনের গাভিকেও এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আয়ালা, আলমাদা ও গাভিকে জরিমানা করা হয়েছে ৩০ হাজার ডলার করে।

আপিলে সাফল্যের আশায় পুরোনো একটি ঘটনাও মনে করিয়ে দিয়েছেন উরিচ। ২০১৮ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সহকারী রেফারিকে অপমান করার অভিযোগে ২০১৭ সালে লিওনেল মেসিকে চার ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা। এএফএর আপিলের পর পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।

এএফএ প্রথমে ফিফার কাছে রায়ের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা চাইবে। এরপর যাবে আপিল কমিশনে। সেখানেও শাস্তি বহাল থাকলে শেষ পথ হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে যাওয়ার কথাও ভাবছে আর্জেন্টিনা।

পারেদেসকে বাঁচাতে আর্জেন্টিনার ‘সুয়ারেজ-যুক্তি’