ঋতুপর্ণার গতি নিয়ে সতর্ক উত্তর কোরিয়া

নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষ দলকে নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দলটির কোচ জানিয়েছেন, বাংলাদেশের আক্রমণভাগ বিশেষ করে ঋতুপর্ণা চাকমার গতি তাদের ভাবাচ্ছে।
চলমান নারী এশিয়ান কাপে ‘বি’ গ্রুপে খেলছে বাংলাদেশ। এই গ্রুপে আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীন এবং সাবেক শিরোপাজয়ী উত্তর কোরিয়া। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ১২ দলের মধ্যে ফিফা র্যাংকিংয়ের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে উত্তর কোরিয়া, যাদের অবস্থান সপ্তম।
বৃহস্পতিবার ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে উত্তর কোরিয়ার কোচ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন। চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ দেখে তিনি বলেন, দলটিকে তিনি প্রত্যাশার চেয়েও শক্তিশালী মনে করেছেন।
তার মতে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের আক্রমণভাগের গতি। রক্ষণ থেকে আক্রমণে দ্রুত পরিবর্তনের সময় বাংলাদেশি ফুটবলাররা বেশ ধারালো ফুটবল খেলতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশের কয়েকজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে বিশেষভাবে নজরে রাখার কথা জানান উত্তর কোরিয়ার কোচ। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে ঋতুপর্ণা চাকমাকে নিয়ে।
তিনি বলেন, ‘মূলত আমি আক্রমণভাগের তিনজন খেলোয়াড়কে বিপজ্জনক মনে করি। এর মধ্যে বিশেষ করে ১৭ নম্বর জার্সিধারী (ঋতুপর্ণা চাকমা) নিয়ে আমি সতর্ক, যিনি বাম প্রান্ত দিয়ে খুব দ্রুত আক্রমণ করতে পারেন।’
চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচে ঋতুপর্ণা কয়েকবার প্রতিপক্ষের ডিফেন্সকে চাপে ফেলেছিলেন। ম্যাচের শুরুতে তার একটি দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, যা গোল হলে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোল হতে পারত।
উত্তর কোরিয়ার কোচ যদিও আক্রমণভাগের আরও দুজন বাংলাদেশি খেলোয়াড়ের কথা উল্লেখ করেন, তবে তাদের নাম বা জার্সি নম্বর নির্দিষ্ট করে বলেননি। তবে বাংলাদেশের আক্রমণের গতি যে তাদের ভাবাচ্ছে, তা স্পষ্ট করেই জানান তিনি।
এদিকে টুর্নামেন্টে তিনটি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলছে ১২টি দল। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দলের সঙ্গে তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা দুই দলও উঠবে কোয়ার্টার ফাইনালে।
গ্রুপের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে চীন ও উত্তর কোরিয়া যদি জয় পায়, তাহলে দুই দলেরই শেষ আটে ওঠা প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে। তবে উত্তর কোরিয়ার কোচ জানিয়েছেন, গোল ব্যবধানের হিসাব না করে তারা প্রতিটি ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে চান।
তিনি আরও বলেন, প্রায় এক দশক আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাইরে থাকার কারণে তাদের দলটিও অনেকটাই নতুনভাবে নিজেদের গড়ে তুলছে। তাই কোনো প্রতিপক্ষকেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।
বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নতি নিয়েও মন্তব্য করেন উত্তর কোরিয়ার কোচ। তার মতে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবল আগে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকলেও এখন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের লড়াকু পারফরম্যান্স দেখে তিনি মনে করেন, দলটি এশিয়ার প্রতিযোগিতামূলক শক্তিগুলোর একটি হয়ে উঠছে।