ইন্টার মায়ামির পথে ক্যাসেমিরো, জটিলতা এমএলএসের নিয়মে

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর ক্যাসেমিরোর পরবর্তী গন্তব্য হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারকে দলে নেওয়ার খুব কাছাকাছি চলে গেছে লিওনেল মেসির ক্লাব ইন্টার মায়ামি। ক্যাসেমিরোরও পছন্দের গন্তব্য মায়ামি। তবে চুক্তির পথে এখনো একটি বড় জটিলতা আছে, সেটি এমএলএসের ‘ডিসকভারি রাইটস’ নিয়ম।
দ্য অ্যাথলেটিকের বরাতে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ক্যাসেমিরো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে এই গ্রীষ্মে ক্লাব ছাড়বেন। ৩৪ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ইন্টার মায়ামিতে খেলতে চান এবং শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে তার এমএলএসে আলোচনার অগ্রাধিকার অধিকার এখন এলএ গ্যালাক্সির হাতে।
এমএলএসে ‘ডিসকভারি রাইটস’ এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে কোনো বিদেশি খেলোয়াড়কে আগে তালিকাভুক্ত করা ক্লাব ওই খেলোয়াড়ের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রাধিকার পায়। ক্যাসেমিরোর ক্ষেত্রে সেই অধিকার ধরে রেখেছে এলএ গ্যালাক্সি। ক্লাবটি তাকে লস অ্যাঞ্জেলেসে নিতে চেয়েছিল এবং খেলোয়াড়ের প্রতিনিধি পক্ষের সঙ্গে একাধিক আলোচনা ও প্রস্তাবও দিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাধারণত এমন জটিলতা মেটাতে এক ক্লাব আরেক ক্লাবকে ক্ষতিপূরণ দেয়। মার্কো রয়েসের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা হয়েছিল। রয়েস শেষ পর্যন্ত এলএ গ্যালাক্সিতে যোগ দিলেও তার অধিকার ছিল শার্লট এফসির হাতে। পরে গ্যালাক্সি শার্লটকে ৪ লাখ ডলার জেনারেল অ্যালোকেশন মানি দিয়ে সেই অধিকার নেয়। ক্যাসেমিরোর ক্ষেত্রেও মায়ামিকে গ্যালাক্সির সঙ্গে সমঝোতায় যেতে হতে পারে।
আরেকটি জটিলতা মায়ামির স্কোয়াড কাঠামো। ইন্টার মায়ামির নির্ধারিত তিন ‘ডেজিগনেটেড প্লেয়ার’ স্লট এখন পূর্ণ। লিওনেল মেসি, রদ্রিগো দি পল ও জার্মান বেরতেরামে সেই জায়গা দখল করে আছেন। তাই এই মৌসুমে ক্যাসেমিরোকে নিতে হলে তাঁর চুক্তি ২০ লাখ ডলারের নিচে রাখতে হতে পারে, যদি না গ্রীষ্মে কোনো ডিপি ক্লাব ছাড়েন।
এই ক্ষেত্রে মায়ামি হয়তো চুক্তিতে এমন অপশন রাখতে পারে, যাতে ভবিষ্যতে জায়গা তৈরি হলে ক্যাসেমিরোকে ডিপি মর্যাদায় উন্নীত করা যায়। ২০২৩ সালে জর্দি আলবার ক্ষেত্রেও প্রায় একই ধরনের কাঠামো ব্যবহার করেছিল মায়ামি। প্রথমে টার্গেটেড অ্যালোকেশন মানি চুক্তিতে নেওয়া হলেও পরে আলবা ডিপি মর্যাদা পান।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে শেষ মৌসুমে নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করেছেন ক্যাসেমিরো। ৩৩ ম্যাচে শুরু করে করেছেন ৯ গোল। ইউনাইটেডের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেরার পথে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ব্রাজিলের হয়েও তিনি বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েছেন, কার্লো আনচেলত্তির স্কোয়াডে থাকছেন অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডার।
২০২২ সালে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিয়েছিলেন ক্যাসেমিরো। রিয়ালে তার সময়টা ছিল কিংবদন্তিতুল্য। পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন তিনি, সঙ্গে তিনটি লা লিগা। ব্রাজিলের হয়ে খেলেছেন ৮৪ ম্যাচ।
ইন্টার মায়ামি বর্তমানে এমএলএস কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। তবে শিরোপা ধরে রাখার মৌসুমটা খুব মসৃণ যাচ্ছে না। ১৪ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে তারা লিগের শীর্ষ দলগুলোর মধ্যে থাকলেও কোচ বদল হয়েছে, কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপ থেকেও বিদায় নিতে হয়েছে। বিশ্বকাপের বিরতির আগে রোববার ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে খেলবে মেসির দল।
