আর্তেতার আর্সেনালের সামনে আজ আলোনসোর চেলসি

একসঙ্গে বেড়ে উঠেছেন, একই দলে ফুটবলও খেলেছেন। দীর্ঘদিনের সেই বন্ধুত্ব এবার সরিয়ে রাখতে হচ্ছে মিকেল আর্তেতা ও জাবি আলোনসোকে। কারণ প্রিমিয়ার লিগে আজ মুখোমুখি তাদের দুই দল আর্সেনাল ও চেলসি। দুই ম্যাচের দুটিতেই জেতা দুই দলের লন্ডন ডার্বিতে তাই নিখুঁত শুরু ধরে রাখার লড়াইয়ের সঙ্গে বাড়তি আকর্ষণ দুই পুরোনো বন্ধুর প্রথম প্রিমিয়ার লিগ দ্বৈরথ।
লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে রোববার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টায় শুরু হবে ম্যাচটি। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল ও নতুন কোচ আলোনসোর চেলসি দুদলই প্রথম দুই ম্যাচ থেকে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট তুলেছে। ফলে মৌসুমের শুরুতেই নিজেদের শক্তির বড় পরীক্ষা দিতে হচ্ছে দুই দলকে।
ম্যাচটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় গল্প অবশ্য দুই ডাগআউটে। দুজনেরই বয়স ৪৪ বছর। স্পেনের বাস্ক অঞ্চলের সান সেবাস্তিয়ানে বেড়ে ওঠা আর্তেতা ও আলোনসো ছোটবেলায় খেলেছেন একই ক্লাব আন্তিগুয়োকোতে। বর্তমান বোর্নমাউথ কোচ আন্দোনি ইরাওলাও ছিলেন সেই দলের অংশ। খেলোয়াড়ি জীবনের পথ পরে আলাদা হয়ে গেলেও বন্ধুত্বটা থেকে গেছে।
কোচ হিসেবেও এর আগে একবার মুখোমুখি হয়েছেন দুই বন্ধু। ২০২৪ সালে আলোনসোর বায়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল আর্তেতার আর্সেনাল। তবে প্রতিযোগিতামূলক ইংলিশ ফুটবলে এবারই প্রথম একে অন্যের বিপক্ষে দাঁড়াবেন তারা। ম্যাচের আগে পুরোনো বন্ধুকে নিয়ে উচ্ছ্বাস লুকাননি আর্তেতা। শৈশব থেকে এতটা পথ পেরিয়ে এখন ইংল্যান্ডের দুই বড় ক্লাবের দায়িত্ব নিয়ে মুখোমুখি হওয়াকে বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখছেন আর্সেনাল কোচ।
তবে মাঠে নামার পর বন্ধুত্বের জায়গা থাকবে না। বিশেষ করে আলোনসোর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ আর্সেনালের বিপক্ষে চেলসির দীর্ঘ জয়খরা কাটানো। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে গানারদের বিপক্ষে সর্বশেষ ১১ ম্যাচের একটিতেও জিততে পারেনি চেলসি। এর মধ্যে আর্সেনালের জয় আটটি, বাকি তিনটি ড্র। প্রিমিয়ার লিগেও টানা নয় ম্যাচে চেলসির কাছে হারেনি আর্তেতার দল।
সাম্প্রতিক ফর্মও আর্সেনালের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। শিরোপা ধরে রাখার অভিযানও শুরু করেছে দাপটের সঙ্গে। উদ্বোধনী ম্যাচে নবাগত কভেন্ট্রি সিটিকে ৩-০ গোলে হারানোর পর অ্যাস্টন ভিলার মাঠে বুকায়ো সাকার একমাত্র গোলে জিতেছে ১-০ ব্যবধানে। দুই ম্যাচে চার গোল করার বিপরীতে এখনো কোনো গোল হজম করেনি বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
অন্যদিকে আলোনসোর অধীনে চেলসির শুরুটা আরও রোমাঞ্চকর। প্রথম ম্যাচে ফুলহামকে ৩-২ গোলে হারানোর পর ব্রাইটনের বিপক্ষে জিতেছে ৪-৩ ব্যবধানে। অর্থাৎ দুই ম্যাচেই জিতেছে ব্লুজরা, গোল করেছে সাতটি। তবে একই সঙ্গে পাঁচ গোল হজম করায় রক্ষণ নিয়ে প্রশ্নও আছে। আক্রমণে কোল পালমার, জোয়াও পেদ্রো ও নতুন মুখ মর্গান রজার্সরা এরই মধ্যে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন।
এই আক্রমণভাগ নিয়েই সতর্ক আর্তেতা। বিশেষ করে ম্যাচের শুরুতেই গোল করার চেলসির সামর্থ্যকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। চেলসির প্রথম দুই ম্যাচেই দ্রুত ম্যাচের গতিপথ বদলে গেছে। তাই আলোনসোর দলের বিপক্ষে ম্যাচের গতি ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন আর্সেনাল কোচ।
চেলসির জন্য অবশ্য বড় দুশ্চিন্তা মাঝমাঠ। ব্রাইটনের বিপক্ষে চোট কাটিয়ে বদলি হিসেবে নেমেছিলেন ময়েসেস কাইসেদো, কিন্তু অল্প সময় পরই আবার মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। আর্সেনালের বিপক্ষে তার খেলা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর মধ্যেই দলবদলের শেষ দিকে এনজো ফার্নান্দেজ ম্যানচেস্টার সিটিতে চলে যাওয়ায় মাঝমাঠে আলোনসোর বিকল্পও কমেছে।
আর্সেনালের শক্তির জায়গা ঠিক উল্টো দিকে। গত মৌসুমের শিরোপা জয়ের অন্যতম ভিত্তি ছিল তাদের জমাট রক্ষণ। নতুন মৌসুমের প্রথম দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষকে মাত্র একটি শট লক্ষ্যে রাখতে দিয়েছে তারা। সেই রক্ষণ ভাঙাই হবে এখন পর্যন্ত সাত গোল করা চেলসির আক্রমণের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
আলোনসোর জন্য ম্যাচটির গুরুত্ব আরও একটি জায়গায়। জুলাইয়ে চেলসির দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তার প্রথম বড় প্রিমিয়ার লিগ পরীক্ষা। বায়ার লেভারকুসেনকে ইতিহাসের প্রথম বুন্দেসলিগা শিরোপা এনে দেওয়ার পর রিয়াল মাদ্রিদ ঘুরে চার বছরের চুক্তিতে স্টামফোর্ড ব্রিজে এসেছেন তিনি। প্রথম দুই ম্যাচে আক্রমণাত্মক চেলসির ঝলক দেখা গেছে, কিন্তু বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের মাঠে ফল করতে পারলে নতুন প্রকল্পের অগ্রগতির সবচেয়ে বড় প্রমাণ মিলবে।
অন্যদিকে আর্তেতার লক্ষ্য পরিষ্কার। শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে ঘরের মাঠে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বীদের পয়েন্ট দেওয়ার সুযোগ নেই। আর্সেনাল যেখানে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত কাঠামো ও জমাট রক্ষণ নিয়ে নামবে, সেখানে আলোনসোর নতুন চেলসি ভরসা রাখবে দ্রুত আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের ওপর।



