ফুটবল দুনিয়াকে মুগ্ধ করল পিএসজি-বায়ার্ন
-1777443035-14775_1777443082.webp)
কিছু ম্যাচ থাকে, যা শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনায় থাকে। প্যারিসে পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখের এই লড়াই ঠিক তেমনই। ৯ গোল, অসংখ্য সুযোগ, অবিরাম আক্রমণ আর শেষ পর্যন্ত ৫-৪ স্কোরলাইন। চ্যাম্পিয়নস লিগের এই সেমিফাইনাল প্রথম লেগ মুহূর্তেই জায়গা করে নিয়েছে স্মরণীয় ম্যাচগুলোর তালিকায়।
৯০ মিনিটে এমন স্কোরলাইন খুব কমই দেখা যায়। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৪ স্বাভাবিক ফল হতে পারে, কিন্তু এক ম্যাচে? তবু বাস্তবতা হলো, ইউরোপের দুই সেরা আক্রমণভাগ যখন মুখোমুখি হয়, তখন ম্যাচ রক্ষণাত্মক কাঠামোর বাইরে চলে গিয়ে হয়ে ওঠে নিখাদ আক্রমণের প্রদর্শনী।
পিএসজি যেমন নিজেদের খেলায় আধিপত্য বিস্তারে অভ্যস্ত, বায়ার্নও তেমনি। ফলে কেউই পিছিয়ে গিয়ে খেলার কথা ভাবেনি। ম্যাচ যত এগিয়েছে, ততই দেখা গেছে দুই দলের আক্রমণভাগ নিজেদের ইচ্ছেমতো খেলছে, যেন দায়িত্বের বোঝা নেই, শুধু সৃজনশীলতার প্রতিযোগিতা।
এই ম্যাচে আক্রমণভাগের উজ্জ্বলতা ছিল চোখে পড়ার মতো। পিএসজির হয়ে খভিচা কাভারাতস্কেলিয়া করেছেন জোড়া গোল, দেম্বেলেও করেছেন দুটি। অন্যদিকে বায়ার্নের হয়ে মাইকেল ওলিসের গোল ছিল দৃষ্টিনন্দন, হ্যারি কেইন পেনাল্টি থেকে স্কোর করেছেন, আর লুইস দিয়াস শেষ দিকে ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে নতুন উত্তেজনা ফেরান।
তবে ম্যাচটি শুধু গোলের জন্য নয়, এর নাটকীয়তার জন্যও বিশেষ। ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পরও পিএসজি শেষ পর্যন্ত ৫-৪ এ ম্যাচ শেষ করে। এই ব্যবধান কমে আসায় ফিরতি লেগের আগে পুরো লড়াই আবার খোলা হয়ে গেছে।
বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির দল শেষ পর্যন্ত আক্রমণ থামায়নি, বরং ৩ গোলের পিছিয়ে পড়ার পরও ফিরে এসেছে ম্যাচে। তার মতে, এই পর্যায়ের ফুটবলে পিছিয়ে গিয়ে রক্ষণে নামা সমাধান নয়, বরং আক্রমণ চালিয়ে যাওয়াই একমাত্র পথ।
পিএসজি অধিনায়ক মারকিনিয়োসও একই সুরে কথা বলেছেন। তার মতে, দ্বিতীয় লেগেও একই ধরনের আক্রমণাত্মক ফুটবল দেখা যেতে পারে। দুই দলই গোল করতে চায়, আর সেই মানসিকতাই ম্যাচকে এত আকর্ষণীয় করে তোলে।
তবে এই ম্যাচ একটি সতর্কবার্তাও দিয়ে গেছে। এত আক্রমণাত্মক ফুটবলের মাঝে রক্ষণভাগের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে দুই দলেরই। বড় ম্যাচে এই ভুলগুলোই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
সবকিছু মিলিয়ে প্যারিসে যা দেখা গেল, তা শুধু একটি ম্যাচ নয়, ফুটবলের এক অনন্য প্রদর্শনী। এখন অপেক্ষা মিউনিখের ফিরতি লেগের, যেখানে এক গোলের ব্যবধান নিয়ে এগিয়ে থাকা পিএসজি ফেভারিট হলেও বায়ার্নের লড়াই যে এখনও শেষ হয়নি, সেটি এই ম্যাচই প্রমাণ করে দিয়েছে।


