চ্যাটজিপিটি দিয়ে কোচিংয়ের অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন কোচ

আগের ক্লাবে ম্যাচ পরিকল্পনা ও খেলোয়াড় বাছাইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভর করতেন, এমন অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন অন্তর্বর্তী কোচ রবার্তো মোরেনো। প্রযুক্তি ব্যবহার করেন বলে স্বীকার করলেও তার দাবি, চ্যাটজিপিটি দিয়ে কোচিং করার খবরটি পুরোপুরি মিথ্যা।
সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হিসেবে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন ৪৮ বছর বয়সী এই স্প্যানিয়ার্ড। রুশ ক্লাব সোচিতে দায়িত্ব পালনের সময় চ্যাটজিপিটির সাহায্যে ম্যাচের প্রস্তুতি এমনকি সম্ভাব্য খেলোয়াড় বাছাই করতেন বলে এর আগে খবর প্রকাশ হয়েছিল।
মোরেনো বলেন, ‘এটি এমন একটি খবর, যা পুরোপুরি মিথ্যা এবং পরে ভাইরাল হয়ে যায়।’
প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি অবশ্য লুকাননি তিনি, ‘অবশ্যই আমি প্রযুক্তি ব্যবহার করি। কেউ যদি ১০ মিনিট সময় নিয়ে বিষয়টি দেখে, তাহলেই বুঝবে কথাগুলো প্রেক্ষাপটের বাইরে নিয়ে এমনভাবে জোড়া দেওয়া হয়েছে, যাতে ক্ষতি করা যায়।’
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বাজে ফলের পর সোচির দায়িত্ব ছাড়েন মোরেনো। এর পরই তার বিরুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার অভিযোগ আরও ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর হং মিয়ং-বো সরে দাঁড়ালে অন্তর্বর্তী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মোরেনোকে। উত্তর আমেরিকায় হওয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া।
আপাতত কয়েকটি প্রীতি ম্যাচে দল সামলাবেন মোরেনো। আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরবে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান কাপ পর্যন্ত তার মেয়াদ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। তবে সেটি নির্ভর করবে তার কাজের মূল্যায়নের ওপর।
প্রথম দলেও অধিনায়ক সন হিউং-মিনকে রেখেছেন মোরেনো। সঙ্গে আছেন লি কাং-ইন ও কিম মিন-জে। সেপ্টেম্বরে ইকুয়েডর ও উরুগুয়ে এবং অক্টোবরে ভেনেজুয়েলা ও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে দক্ষিণ কোরিয়া।
সমর্থকদের আস্থা ফেরানোই এখন মোরেনোর প্রধান লক্ষ্য, ‘আমরা সততার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করব এবং সব কোরিয়ান ফুটবল সমর্থককে আনন্দ দেওয়ার লক্ষ্য থাকবে। ভালো ম্যাচ খেলতে চাই, খেলোয়াড়দের সাহায্য করতে চাই।’
সনকে কীভাবে ব্যবহার করবেন, সেই প্রশ্নেও স্পষ্ট নতুন কোচ, ‘সনের বহুমুখিতা সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। আমার কাছে সে তিনটি পজিশনে খেলতে পারে।’


