রদ্রিকে নিতে আত্মবিশ্বাসী রিয়াল, চাপে ম্যানসিটি

পেপ গার্দিওলার বিদায়ের পর নতুন যুগে প্রবেশ করেছে ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটি। এই পরিবর্তনের মধ্যেই ক্লাব ছাড়তে পারেন মাঝমাঠের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় রদ্রি। স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে এবারের দলবদলেই সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে নিতে আত্মবিশ্বাসী রিয়াল মাদ্রিদ।
গোল ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর দলবদলের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই রদ্রিকে দলে নিতে চায় রিয়াল। বিশ্বকাপে ৩০ বছর বয়সী মিডফিল্ডারের পারফরম্যান্স দেখার পর দীর্ঘদিনের আগ্রহ আবারও জোরালো করেছে স্প্যানিশ ক্লাবটি।
ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে রদ্রির চুক্তির আর এক বছর বাকি। এর আগে নিজ শহর মাদ্রিদ ও স্প্যানিশ ফুটবলে ফেরার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। মার্চে রিয়ালে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রদ্রি বলেছিলেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা কোনো ক্লাবের প্রস্তাব সহজে ফিরিয়ে দেওয়া যায় না।
গার্দিওলার বিদায়ের পর এনজো মারেস্কার অধীনে দল পুনর্গঠন করছে ম্যানসিটি। এরই মধ্যে বার্নার্দো সিলভা ও জন স্টোনসের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়েরা ক্লাব ছেড়েছেন। এবার রদ্রিকেও হারালে নতুন কোচের কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
রিয়ালের আগ্রহ নিয়ে অবশ্য উদ্বিগ্ন নন মারেস্কা। তার মতে, বড় খেলোয়াড়দের ঘিরে দলবদলের আলোচনা থাকাটাই স্বাভাবিক। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, পিঠে অস্ত্রোপচারের পর বিশ্রাম ও পুনর্বাসন শেষে রদ্রির সিটিতে ফেরার কথা রয়েছে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হাঁটুর গুরুতর চোটে পড়েছিলেন রদ্রি। এরপর আরও কয়েকটি শারীরিক সমস্যার কারণে নিয়মিত খেলতে পারেননি। তবে সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপে স্পেনের শিরোপা জয়ে মাঝমাঠের প্রধান চালিকাশক্তি ছিলেন তিনি। বলের গতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভাঙায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ব্যালন ডি’অরজয়ী এই মিডফিল্ডার।
রদ্রি চলে গেলে তার জায়গা পূরণের মতো পরীক্ষিত খেলোয়াড় খুব বেশি নেই সিটির দলে। বড় অঙ্কে যোগ দেওয়া এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে নতুন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। তবে নিকো গঞ্জালেস প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি এবং তিজানি রেইন্ডার্সও ধারাবাহিক নন। মাতেও কোভাচিচ, রিকো লুইস ও কালভিন ফিলিপসও ক্লাব ছাড়তে পারেন।
রদ্রির দলবদল হলে মরক্কোর বিশ্বকাপ দলের তরুণ মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দির আগমনও এগিয়ে আনতে পারে ম্যানসিটি। তবে ১৮ বছর বয়সী একজন ফুটবলারের ওপর রদ্রির দায়িত্ব তুলে দেওয়া বড় ঝুঁকিই হবে।
গার্দিওলার পর ম্যানসিটিকে স্থিতিশীল রাখাই মারেস্কার সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। সেই অভিযাত্রার শুরুতেই রদ্রিকে হারালে ইতিহাদের পুনর্গঠন আরও জটিল হয়ে উঠবে।
.png)

