নেইমারের সঙ্গে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ মিশনে যাচ্ছেন যারা

ফুটবল বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় দল ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা মানেই সাধারণত তারকার ভিড়। তবে এবার রিও ডি জেনিরোর ঝলমলে আয়োজনে সবচেয়ে বেশি অপেক্ষা ছিল এক নামের জন্য—নেইমার। দেড় বছরের বেশি সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকার পরও কার্লো আনচেলত্তির ২৬ সদস্যের দলে জায়গা পেয়েছেন ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তার সঙ্গে বিশ্বকাপ মিশনে যাচ্ছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারায়েসদের মতো তারকারাও।
৩৪ বছর বয়সী নেইমার ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে ব্রাজিলের হয়ে খেলেননি। গত ১৮ মাস ধরে আছেন শৈশবের ক্লাব সান্তোসে। জাতীয় দলের হয়ে ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করা এই ফরোয়ার্ডকে দলে রাখা হবে কি না, তা নিয়ে ব্রাজিলে দীর্ঘ বিতর্ক ছিল। শেষ পর্যন্ত আনচেলত্তি অভিজ্ঞতা ও বড় মঞ্চের পরীক্ষিত মানের ওপর ভরসা রেখেছেন।
নেইমারের জন্য এটি হবে চতুর্থ বিশ্বকাপ। এর আগে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে খেলেছেন তিনি। চোট, ফিটনেস ও ফর্ম নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের অভিযানে আবারও তাকে দেখা যাবে সেলেসাওদের হলুদ জার্সিতে।
দল ঘোষণার পর আনচেলত্তি স্বীকার করেছেন, ২৬ জন বেছে নেওয়া সহজ ছিল না। ব্রাজিল কোচ বলেছেন, এই দেশে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি, তাই বাদ পড়া কয়েকজন খেলোয়াড়ের হতাশ হওয়া স্বাভাবিক।
ব্রাজিলের আক্রমণভাগে নেইমারের সঙ্গে আছেন রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, বার্সেলোনার রাফিনিয়া, আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাতেউস কুনিয়া, লিওনের এন্ড্রিক, ব্রেন্টফোর্ডের ইগর থিয়াগো, জেনিতের লুইস হেনরিক ও বোর্নমাউথের তরুণ রায়ান। জানুয়ারিতে ভাস্কো দা গামা থেকে বোর্নমাউথে যাওয়ার পর ভালো পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী রায়ান।
É A LISTA DO CORAÇÃO! É A LISTA DO BRASIL! 🇧🇷
— brasil (@CBF_Futebol) May 18, 2026
Não são apenas 26 nomes. São 26 corações que sonharam com esse momento.
VAMOS EM BUSCA DA SEXTA ESTRELA! 🌟⭐🏆#BateNoPeito
ISSO É BRASIL! pic.twitter.com/1MRWJyG9ug
তবে আক্রমণভাগে জায়গা হয়নি চেলসির জোয়াও পেদ্রোর। ২৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড আনচেলত্তির অধীনে নিয়মিত সুযোগ পেলেও শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত দলে নেই। তার বাদ পড়া ব্রাজিল দলে সবচেয়ে বড় আলোচনার একটি। বাদ পড়েছেন প্রিমিয়ার লিগের আরও দুই পরিচিত মুখ আন্দ্রে সান্তোস ও রিচার্লিসন।
চোটের কারণে নেই রিয়াল মাদ্রিদের রদ্রিগো। এসিএল চোটে আগেই তার বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যায়। একই ক্লাবের এদের মিলিতাওও হাঁটুর সমস্যার কারণে দলে নেই। চেলসির তরুণ এস্তেভাও হ্যামস্ট্রিং চোট কাটিয়ে উঠতে না পারায় বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পাননি।
মাঝমাঠে অভিজ্ঞতা ও ভারসাম্যের ওপর জোর দিয়েছেন আনচেলত্তি। আছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাসেমিরো, নিউক্যাসলের ব্রুনো গিমারায়েস, আল ইত্তিহাদের ফাবিনিও, ফ্লামেঙ্গোর লুকাস পাকেতা ও বোটাফোগোর দানিলো। পাকেতার জায়গা পাওয়া নিয়েও কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তিনি ২৬ জনের দলে আছেন।
রক্ষণভাগে আছেন আর্সেনালের গাব্রিয়েল, পিএসজির মারকিনিয়োস, জুভেন্টাসের ব্রেমের, ফ্লামেঙ্গোর দানিলো ও অ্যালেক্স সান্দ্রো, জেনিতের ডগলাস সান্তোস, রোমার ওয়েসলি, আল আহলির রজার ইবানিয়েজ ও ফ্লামেঙ্গোর লিও পেরেইরা। গোলপোস্টে আছেন আলিসন, এদেরসন ও ওয়েভারতন।
তবে ব্রাজিলের ফুল-ব্যাক পজিশন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বাঁ পাশে ডগলাস সান্তোসকে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে, বিকল্প হিসেবে আছেন অ্যালেক্স সান্দ্রো। ডান পাশে ওয়েসলি, রজার ইবানিয়েজ ও দানিলোর মধ্যে সমাধান খুঁজতে হবে আনচেলত্তিকে।
বিশ্বকাপের আগে ২৭ মে ক্যাম্পে যোগ দেবেন ব্রাজিলের খেলোয়াড়েরা। ৩১ মে রিও ডি জেনিরোর মারাকানায় পানামার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে সেলেসাওরা। এরপর ৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ডে মিসরের মুখোমুখি হবে তারা। এক সপ্তাহ পর মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান।
ব্রাজিলের ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দল
গোলরক্ষক: আলিসন, এদেরসন, ওয়েভারতন।
ডিফেন্ডার: অ্যালেক্স সান্দ্রো, ব্রেমের, দানিলো, ডগলাস সান্তোস, গাব্রিয়েল, রজার ইবানিয়েজ, লিও পেরেইরা, মারকিনিয়োস, ওয়েসলি।
মিডফিল্ডার: ব্রুনো গিমারায়েস, কাসেমিরো, দানিলো, ফাবিনিও, লুকাস পাকেতা।
ফরোয়ার্ড: এন্ড্রিক, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, ইগর থিয়াগো, লুইস হেনরিক, মাতেউস কুনিয়া, নেইমার, রাফিনিয়া, রায়ান, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
