কর্নেয়া কাণ্ডে চাপে স্পেন, সুযোগ নিচ্ছে মরক্কো

স্পেন-মিসর প্রীতি ম্যাচের সেই রাতটা শেষ হলেও বিতর্ক থামেনি। কর্নেয়ায় যা ঘটেছে, সেটি এখন আর শুধু একটি ম্যাচের ঘটনা নয় বরং স্প্যানিশ ফুটবলের ভাবমূর্তির প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্টেডিয়ামের একটি নির্দিষ্ট অংশ থেকে উঠে আসা কয়েকটি স্লোগান পুরো ঘটনাটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। বিশেষ করে ‘যে লাফাবে না, সে মুসলিম’—এই ধরনের মন্তব্য তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্নেয়ার আরসিডিই স্টেডিয়ামের দক্ষিণ স্ট্যান্ডের কিছু নির্দিষ্ট সেকশন থেকে এসব স্লোগান শুরু হয়। পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে নয়, তবে এতটাই জোরে ছিল যে দ্রুতই সবার নজরে আসে।
বিরতির সময় বিষয়টি রেফারিকে জানানো হলে সঙ্গে সঙ্গে উয়েফার প্রোটোকল চালু করা হয়। দ্বিতীয়ার্ধে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়, মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়। এরপর আবার স্লোগান উঠলে, বাকি দর্শকরাই শিস দিয়ে সেটিকে থামানোর চেষ্টা করেন।
ঘটনার পেছনে একটি নির্দিষ্ট সমর্থক গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। তদন্তে জানা গেছে, ‘বার্সেলোনা উইথ দ্য ন্যাশনাল টিম’ নামে একটি গ্রুপ ওই স্ট্যান্ডের বেশিরভাগ টিকিট সংগ্রহ করেছিল। প্রায় ১৯০০ টিকিট ওই অংশে বরাদ্দ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে তারা সরাসরি টিকিট কেনেনি, বরং ফেডারেশনের দেওয়া একটি লিংকের মাধ্যমে প্রবেশাধিকার পেয়েছে—এমনটাই দাবি তাদের।
ম্যাচ শুরুর আগেই উত্তেজনার ইঙ্গিত ছিল। ওই গোষ্ঠী স্টেডিয়ামে বিশেষ সরঞ্জাম (ক্যামেরা, মেগাফোন) নেওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেন। এরপর থেকেই পরিবেশ কিছুটা অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।
এই ঘটনায় কেবল ক্রীড়াঙ্গনই নয়, রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্প্যানিশ সরকার বিষয়টি প্রসিকিউটরের কাছে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে কাতালোনিয়ার পুলিশ (মোসোস দ’এসকোয়াদ্রা) ভিডিও ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষণ করে দায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।
ঘটনাটি আন্তর্জাতিকভাবেও প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে মরক্কো এই বিতর্ককে কাজে লাগাতে শুরু করেছে।
২০৩০ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। তবে ফাইনাল কোথায় হবে—তা নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
মরক্কোর কিছু গণমাধ্যম দাবি করছে, স্পেনের স্টেডিয়ামগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে বারবার বর্ণবাদী ঘটনা ঘটছে, যা বড় ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
তাদের যুক্তি, এমন ঘটনা মরক্কোর স্টেডিয়ামে দেখা যায় না এবং এদিক থেকে তারা ফাইনাল আয়োজনের জন্য এগিয়ে থাকতে পারে।
এই বিতর্কে আরও একটি প্রতীকী বিষয় সামনে এসেছে। স্পেন দলের অন্যতম বড় তারকা লামিন ইয়ামাল নিজেও মুসলিম এবং মরক্কান বংশোদ্ভূত। ফলে বিষয়টি শুধু ফুটবল নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আলোচনাতেও জায়গা করে নিয়েছে।
এদিকে তদন্ত এখনো চলছে। ফিফার শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, এমন ঘটনায় জরিমানা, দর্শকসংখ্যা সীমিত করা বা স্টেডিয়ামের অংশ বন্ধ রাখার মতো শাস্তিও হতে পারে।
কর্নেয়া বিতর্ক এখনও শেষ হয়নি। বরং নতুন করে আলোচনা তৈরি করছে।
ফুটবল কি সত্যিই সবাইকে এক করে, নাকি মাঠের বাইরের বিভাজন এখনও সেখানে রয়ে গেছে?