অলৌকিক প্রত্যাবর্তনও বাঁচাতে পারল না জুভেন্টাসকে

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে অফের প্রথম লেগে ৫-২ ব্যবধানে হার। শেষ ষোলোয় উঠতে দরকার ছিল অন্তত তিন গোল। তার ওপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই লাল কার্ডে দশ জনে নেমে পড়ে ইতালিয়ান জায়ান্ট জুভেন্টাস। সব হিসাব বলছিল, এখানেই শেষ। কিন্তু তুরিনে এক সময় মনে হচ্ছিল ইতিহাস লিখতে চলেছে জুভেন্টাস—৩ গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে ম্যাচ শুরু করা দলটি ৫-৫ সমতায় ফেরায়।
তবু চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রাত নির্মম। অতিরিক্ত সময়ে ভিক্টর ওসিমহেন ও বারিশ আলপার ইলমাজের দুই গোলে ৩-২ জিতে (৭-৫) শেষ পর্যন্ত শেষ ষোলো নিশ্চিত করে গালাতাসারায়ে।
শুরু ম্যাচের ৩৬ মিনিটে। লুকাস তোরেইরার করা ফাউলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে পেনাল্টি থেকে গোল করে প্রত্যাবর্তনের সূচনা করেন জুভেন্টাস অধিনায়ক মানুয়েল লোকাতেল্লি।।
কিন্তু ৪৯ মিনিটে লয়েড কেলির লাল কার্ডে বিপদে পড়ে স্বাগতিকরা। সরাসরি লাল কার্ডের সিদ্ধান্তটি আসে ভিএআর পর্যালেচনার পর।
সংখ্যায় কম হলেও হাল ছাড়েনি জুভে। পিয়ের কালুলুর ক্রস থেকে ফেদেরিকো গাত্তি ব্যবধান কমান। এরপর ম্যাচের ৮২ মিনিটে ওয়েস্টন ম্যাককেনির হেডে ৩-০—সমষ্টিগত স্কোর দাঁড়ায় ৫-৫। পুরো স্টেডিয়াম তখন বিস্ফোরিত উল্লাসে।
ইতালিয়ান ক্লাব ইতিহাসের চতুর্থ দল হিসেবে প্রথম লেগে তিন বা তার বেশি গোলে পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়ানোর দ্বারপ্রান্তে ছিল তুরিনের বুড়িরা।
কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে ক্লান্তি ধরা দেয়। ১০৫ মিনিটে ইলমাজের পাস থেকে নিচু শটে গোল করেন ভিক্টর ওসিমহে। জুভেন্টাসকে আবারও চাপে ফেলে তুর্কি দলটি।
শেষদিকে জুভেন্টাস সুযোগ নষ্ট করলে ১১৮ মিনিটে ইলমাজ নিজেই গোল করে ব্যবধান বাড়ান। সেই গোলেই কার্যত শেষ হয়ে যায় ম্যাচ।
দীর্ঘ সময় দশ জনে লড়ে, তিন গোল শোধ করেও শেষ পর্যন্ত ইউরোপ অভিযান শেষ হয় জুভেন্টাসের। অন্যদিকে ২০১৩-১৪ মৌসুমের পর প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোয় উঠল গালাতাসারায়। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে লিভারপুল অথবা টট্যেনহাম।