ফিফার নতুন প্রস্তাবে বড় অর্থ পেতে পারে বাংলাদেশ

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বিশাল রিজার্ভ থেকে সদস্য দেশগুলোর জন্য বাড়তি অর্থ ছাড়ের প্রস্তাব উঠেছে। পরিকল্পনাটি বর্তমান রূপে অনুমোদন পেলে ২০২৭-৩০ চক্রে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও পেতে পারে অন্তত ১০ মিলিয়ন ডলার, বর্তমান হিসাবে যা প্রায় ১২৩ কোটি ২০ লাখ টাকা।
ফিফার হাতে বর্তমানে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ রয়েছে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এর পরিমাণ প্রায় ৭৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। সেই অর্থের একটি অংশ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মধ্যে বিতরণের সম্ভাবনা নিয়ে আগামী ১৫ অক্টোবর ফিফা কাউন্সিলের সভায় আলোচনা হবে।
প্রস্তাবটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার চেফেরিন, কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মনতালিয়ানি এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা।
চেফেরিন ও মনতালিয়ানির প্রস্তাবে ফিফার রিজার্ভ থেকে এককালীন অর্থ ছাড়ের পাশাপাশি ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের চক্রে প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের জন্য অন্তত ১০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
ফিফার ২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের একটি বাংলাদেশ। ফলে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে বাফুফেও এই বাড়তি বরাদ্দের আওতায় আসতে পারে।
সোমবার ছয় কনফেডারেশনের সভাপতিদের পাঠানো এক চিঠিতে এ নিয়ে আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে চূড়ান্ত অঙ্ক নিয়ে আগাম কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি তিনি।
ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘আমি অর্থের পরিমাণ আগেই নির্ধারণ করতে চাই না। যথাযথ পরিচালন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, ন্যায্যভাবে এবং স্বচ্ছ ও নিরীক্ষাযোগ্য ব্যবস্থায় যতটা সম্ভব অতিরিক্ত অর্থায়ন দায়িত্বশীলভাবে করা যায়, আমি সেটিকেই সমর্থন করব।’
বিভিন্ন কনফেডারেশন থেকে আসা প্রস্তাবগুলো একত্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ আর্থিক মূল্যায়ন তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফিফা মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রমকে। সংশ্লিষ্টদের কাছে আর্থিক মডেল, হিসাবের ভিত্তি ও প্রয়োজনীয় তথ্যও চেয়েছেন ইনফান্তিনো।
ফিফা সভাপতি জানিয়েছেন, সব প্রস্তাব যাচাই করে ১৫ অক্টোবরের কাউন্সিল সভায় উপস্থাপন করা হবে। তার ভাষায়, একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক দিয়ে আলোচনা শুরু করা গেলেও সেটিই বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণের জন্য যথেষ্ট নয়।
এএফসি সভাপতি শেখ সালমানও দ্রুত সিদ্ধান্তের পক্ষে মত দিয়েছেন। ফলে প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে বাংলাদেশের মতো সদস্য দেশগুলোর জন্য ফিফা থেকে পাওয়া অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
তবে বাফুফে শেষ পর্যন্ত কত টাকা পাবে, কোন খাতে সেই অর্থ ব্যবহার করা যাবে কিংবা অর্থ ছাড়ের শর্ত কী হবে, সেসব জানতে অপেক্ষা করতে হবে ফিফা কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত।
-8564ab.webp)