logo

২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরল তুরস্ক

২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরল তুরস্ক

শেষ বাঁশি বাজতেই যেন বুক ভরে নিঃশ্বাস নিল তুরস্ক। অপেক্ষাটা ছিল দীর্ঘ ২৪ বছরের। সেই অপেক্ষার অবসান হলো অবশেষে—কসোভোকে হারিয়ে আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে তারা।

প্রিস্টিনায় ম্যাচটা সহজ ছিল না, বরং পুরোটা সময়ই লড়াই করতে হয়েছে ভিনচেনজো মন্টেলার দলকে। কাগজে-কলমে তুরস্ক এগিয়ে থাকলেও মাঠে কসোভোই শুরুতে বেশি আক্রমণাত্মক ছিল। দ্রুত বল কেড়ে নেওয়া আর পাল্টা আক্রমণে বারবার চাপে ফেলে তারা তুরস্ককে।

প্রথমার্ধেই গোলের দারুণ সুযোগ পায় কসোভো। আসলানির দূরপাল্লার শক্তিশালী শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে ঠেলে দেন গোলরক্ষক চাকির। সেই মুহূর্তেই বোঝা যাচ্ছিল, ম্যাচটা একতরফা হবে না।

তুরস্কও বসে থাকেনি। তরুণ কেনান ইয়িলদিজের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে তৈরি হয় তাদের সেরা সুযোগ। তবে শেষ মুহূর্তে গোললাইন থেকে বল সরিয়ে দেন কসোভোর ডিফেন্ডার হাজরিজি। গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা বদলে যায় ম্যাচের ছন্দ। ৫৩ মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় তুরস্ক। ইয়িলদিজ ডান দিক দিয়ে উঠে বল বাড়ান, সেখান থেকে কোকচুর শট গোলমুখে গড়াতে থাকলে সবার আগে পৌঁছে টোকা দেন আকতুরকোগলু—অবশেষে ভাঙে অচলাবস্থা।

গোল হজমের পর কিছুটা ছন্দ হারালেও কসোভো দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভর করে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায় তারা। একের পর এক আক্রমণ তুললেও তুরস্কের রক্ষণভাগ দৃঢ় থাকে।

অন্যদিকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েও পারেনি তুরস্ক। কসোভোর গোলরক্ষক মুরিচ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে ম্যাচে রাখেন শেষ পর্যন্ত।

শেষ বাঁশি বাজতেই নিশ্চিত হয় তুরস্কের জয়, আর তার সঙ্গে বিশ্বকাপে ফেরা। ২০০২ সালের পর এই প্রথম আবার ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে দেখা যাবে তাদের।

এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়—একটি প্রজন্মের অপেক্ষার শেষ। নতুন প্রজন্মের তারকা আরদা গুলেরদের সামনে এখন নতুন মঞ্চ, নতুন স্বপ্ন। ২০২৬ বিশ্বকাপে তুরস্ক কতদূর যাবে, সেটাই এখন দেখার।