কামাভিঙ্গার লাল কার্ড নিয়ে ফুটবলাঙ্গনে বিতর্ক

একটি সিদ্ধান্তই বদলে দিল ম্যাচের গতিপথ। আর সেই সিদ্ধান্ত নিয়েই এখন উত্তাল পুরো ফুটবল বিশ্ব।
বায়ার্ন মিউনিখ-রিয়াল মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে ৮৬ মিনিটে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ম্যাচ তখন সমতায়, দুই দলই লড়ছে শেষ মুহূর্তের সুযোগের জন্য। ঠিক তখনই রেফারির সেই সিদ্ধান্ত রিয়াল মাদ্রিদের ভাগ্য কার্যত নির্ধারণ করে দেয়।
মাত্র ২৪ মিনিট মাঠে ছিলেন কামাভিঙ্গা। তার মধ্যে ৮ মিনিটের ব্যবধানে দুটি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। প্রথমটি ছিল মুসিয়ালার ওপর ফাউলের জন্য, দ্বিতীয়টি বল ধরে রাখার অভিযোগে।
রিয়ালের কোচিং স্টাফের অংশ আলভারো আরবেলোয়া সরাসরি বলেন, এমন ঘটনায় একজন খেলোয়াড়কে বহিষ্কার করা ব্যাখ্যাতীত। তার মতে, এটি ফুটবলের স্বাভাবিক প্রবাহকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
রেফারিং বিশেষজ্ঞদের অনেকেই একই সুরে কথা বলেছেন। কেউ বলছেন, সিদ্ধান্তটি ছিল মাত্রাতিরিক্ত কঠোর। কেউ আবার একে ক্ষমতার অপব্যবহারের কাছাকাছি বলে মন্তব্য করেছেন।
স্প্যানিশ বিশ্লেষক পেদ্রো মার্তিনের মতে, এই বহিষ্কার ভবিষ্যতে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি হয়ে থাকবে, কারণ ম্যাচের সময়, প্রেক্ষাপট এবং প্রতিপক্ষ সবকিছু মিলিয়ে এটি ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে।
সাবেক রেফারি মাতেউ লাহোস আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোই উচিত হয়নি। তার মতে, এটি রেফারির বড় ধরনের বিচক্ষণতার ঘাটতি।
রিয়াল মাদ্রিদ শিবিরে ক্ষোভ ছিল স্পষ্ট। ম্যাচের পর কেউ কেউ কথা বলতে চাননি। আন্তোনিও রুডিগারের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া ছিল, আজ না বলাই ভালো।
তবে ভিন্ন মতও রয়েছে। বায়ার্নের হ্যারি কেইন মনে করেন, এটি স্পষ্ট লাল কার্ডের পরিস্থিতি। তার যুক্তি, নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল।
ম্যাচের মোড় ঘুরতে বেশি সময় লাগেনি। ক্যামাভিঙ্গা মাঠ ছাড়ার তিন মিনিটের মধ্যেই গোল করে বায়ার্ন সমতায় ফেরে, এরপরই শেষ মুহূর্তে আসে জয়সূচক গোল।
ফলাফল একদিকে হলেও বিতর্ক থামেনি। বরং প্রশ্ন উঠেছে বড় মঞ্চে রেফারিংয়ের মান, সিদ্ধান্তের সামঞ্জস্য এবং ম্যাচ ম্যানেজমেন্ট নিয়ে।
তথ্যসূত্র: মার্কা.কম