logo

বিশ্বকাপের এক পার্কিংয়ের দামে ইউরোর পাঁচ টিকিট!

বিশ্বকাপের এক পার্কিংয়ের দামে ইউরোর পাঁচ টিকিট!

ফুটবল দেখা দিন দিন কতটা ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে, তার এক অদ্ভুত তুলনা সামনে আনল ইউরো ২০২৮ ও বিশ্বকাপ ২০২৬। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে যেখানে একজন সমর্থক পাঁচটি ম্যাচের টিকিট কিনতে পারবেন, সেখানে একই দামে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের একটি ম্যাচে শুধু গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গাই মিলছে!

উয়েফা জানিয়েছে, ইউরো ২০২৮-এ সাধারণ দর্শকদের জন্য টিকিটের দাম প্রায় আগের মতোই রাখা হবে। গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দাম ধরা হচ্ছে আনুমানিক ৩০ থেকে ৬০ ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪,০০০ থেকে ৮,৫০০ টাকা। অর্থাৎ একজন সমর্থক তুলনামূলক কম খরচেই একাধিক ম্যাচ মাঠে বসে দেখতে পারবেন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে খরচের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। গ্রুপ পর্বের একটি ম্যাচের টিকিটের দাম শুরু হয়েছিল প্রায় ২২০ ডলার থেকে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৪,০০০ টাকা। আর সবচেয়ে দামি টিকিটের মূল্য গেছে প্রায় ৭০০ ডলার বা ৭৬,০০০ টাকার কাছাকাছি।

তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি এসেছে পার্কিং খরচ নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখতে গেলে একটি গাড়ি পার্কিংয়ের জন্যই গড়ে প্রায় ১৭৫ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১৯,০০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে সমর্থকদের। কিছু স্টেডিয়ামে এই খরচ আরও বেশি, প্রায় ২৪,০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে তুলনাটা আরও পরিষ্কার—যে অর্থে একজন দর্শক বিশ্বকাপের এক ম্যাচে শুধু গাড়ি রাখার জায়গা পাচ্ছেন, সেই অর্থেই ইউরো ২০২৮-এ তিনি পাঁচটি ম্যাচের টিকিট কিনতে পারবেন।

সমর্থকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ইউরো আয়োজকরা ‘ফ্যানস ফার্স্ট’ ক্যাটাগরিতে প্রায় ৪০ শতাংশ টিকিট বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি টিকিটের পুনর্বিক্রয়েও থাকবে নির্ধারিত মূল্য, যাতে অতিরিক্ত দামের চাপ না পড়ে।

অন্যদিকে বিশ্বকাপে ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতি চালু থাকায় ম্যাচের গুরুত্ব ও চাহিদা অনুযায়ী টিকিটের দাম বেড়ে যাচ্ছে। এতে সাধারণ সমর্থকদের জন্য খেলা দেখা আরও কঠিন হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ উঠেছে।