logo

বিশ্বকাপের আগে ফিফার সামনে পাঁচ বড় প্রশ্ন

বিশ্বকাপের আগে ফিফার সামনে পাঁচ বড় প্রশ্ন

আর মাত্র তিন মাস পর শুরু হওয়ার কথা ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এই আসরকে শুরুতে ইতিহাসের সবচেয়ে সহজ আয়োজনগুলোর একটি মনে করা হয়েছিল। তবে টুর্নামেন্ট ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক নতুন জটিলতা সামনে আসছে—যুদ্ধের প্রভাব, নিরাপত্তা উদ্বেগ, ভিসা জটিলতা, বাছাইপর্বের অনিশ্চয়তা এবং টিকিট বিতর্ক। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বিশ্লেষণ করেছে, বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফার সামনে ঠিক কোন পাঁচটি বড় প্রশ্ন এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশ্বকাপে কি খেলবে ইরান?

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির সঙ্গে পশ্চিমাদের উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দোনিয়ামালি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে।

তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘আমাদের নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’

তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।

যুদ্ধের মধ্যেও কি যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে আতিথ্য দেবে?

বর্তমান ড্র অনুযায়ী ইরানের সব গ্রুপ ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এমনকি নকআউট পর্বে দুই দল নিজ নিজ গ্রুপে দ্বিতীয় হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মুখোমুখিও হতে পারে।

যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে স্বাগতম জানাতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে ফিফা আয়োজক দেশের মর্যাদা পরিবর্তন করার মতো কঠিন সিদ্ধান্তও নিতে পারে। এর আগে ২০২৩ সালের অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বকাপ আয়োজনের অধিকার হারিয়েছিল ইন্দোনেশিয়া। কারণ, তারা ইসরায়েল দলকে স্বাগত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

ইরাকের বাছাইপর্ব কি সময়মতো হবে?

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে ইরাকের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও। ৩১ মার্চ মেক্সিকোর মন্টেরেতে ইরাকের আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ম্যাচ হওয়ার কথা, কিন্তু সংঘাতের কারণে দেশটির আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

ফলে দলটি পূর্ণ প্রস্তুতি নিতে পারছে না। ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড ম্যাচটি পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার জন্য আরও সময় পাওয়া যায়।

মেক্সিকোয় নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত?

বিশ্বকাপের একটি বড় অংশ আয়োজন করবে মেক্সিকো। কিন্তু সম্প্রতি দেশটিতে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফেব্রুয়ারিতে এক শক্তিশালী মাদকচক্রের নেতা নিহত হওয়ার পর বিভিন্ন অঞ্চলে গাড়ি পোড়ানো ও মহাসড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে।

যদিও মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম আশ্বস্ত করেছেন যে বিশ্বকাপ চলাকালে প্রায় এক লাখ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে এবং দর্শকদের জন্য কোনো ঝুঁকি থাকবে না।

টিকিটের দাম কি সাধারণ দর্শকের নাগালে?

বিশ্বকাপের টিকিটের মূল্য নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রথম দুই ধাপেই প্রায় ২০ লাখ টিকিট বিক্রি হয়েছে এবং চাহিদা সরবরাহের তুলনায় প্রায় ৩০ গুণ বেশি।

উদ্বোধনী ম্যাচের সবচেয়ে দামী টিকিটের দাম প্রায় ৯০০ ডলার, আর ফাইনালের টিকিটের দাম ৮ হাজার ডলারের বেশি। ফিফার অফিসিয়াল পুনর্বিক্রয় সাইটে ফাইনালের একটি টিকিটের দাম ১ লাখ ৪৩ হাজার ডলার পর্যন্ত উঠেছে, যা মূল দামের তুলনায় প্রায় ৪১ গুণ বেশি।

সব মিলিয়ে, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর শুরু হওয়ার আগেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। এসব প্রশ্নের সমাধান করতে পারলেই কেবল নির্বিঘ্নভাবে আয়োজন করা সম্ভব হবে ফুটবলের এই মহোৎসব।